শ্রমিক ধর্মঘটে উত্তাল খুলনা, সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:১৬ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০১৯ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকদের ডাকা বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো ধর্মঘটে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে চার পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে খুলনার খালিশপুর নতুন রাস্তার মোড়, আটরা শিল্পাঞ্চলে আলিম জুট মিলের সামনের রোড এবং যশোরের রাজঘাট এলাকার সড়কপথ-রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা। এর ফলে সারা দেশের সাথে খুলনার ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
এদিকে মহানগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেন পাটকলের শ্রমিক। সংঘর্ষে চার পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
সকাল ৯টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড়ে অবস্থিত পুলিশ বক্সে ভাংচুর করেন পাটকলের শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া দিলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইস্টার্ন এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলে বর্তমানে ১৩ হাজার ২৭১ শ্রমিক কাজ করছেন। মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
শ্রমিক নেতারা জানান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
-জেডসি
