ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ২০:০১:২৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

লন্ডনে বসে বাধা দেবে, সেটা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫:২৭ এএম, ১৫ জুন ২০১৫ সোমবার | আপডেট: ০৫:২৯ এএম, ১৫ জুন ২০১৫ সোমবার

PM1_2110--14সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, লন্ডন : রোববার লন্ডনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশের মাটিতে বসে কাউকে বাংলাদেশের উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, “লন্ডনে বসে বাংলাদেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে- এটা হবে না।” ভারতের সঙ্গে  স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অর্জনের জন্য লন্ডনের পার্ক লেইন শেরাটন হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ওই সংবর্ধনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠান চলাকালে ওই হোটেলের বাইরে যুক্তরাজ্য বিএনপির শখানেক কর্মী কালো পতাকা ও ঝাড়ু হাতে ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে থেকে হ্যান্ড মাইকে তাদের ‘গো ব্যাক হাসিনা’, ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় স্থানীয় বিএনপিকর্মীদের এ আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ডেমোনস্ট্রেশন কীসের জন্য? স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি তার প্রতিবাদে? সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি তার প্রতিবাদে? ” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একদিকে আমাদের যেমন ন্যাচারাল ক্যালামিটিজ আছে, সেইসঙ্গে আমাদের ম্যান মেইড ক্যালামিটিজও আছে। দুটোই আমাদের মোকাবিলা করতে হয়। জ্বালাও-পোড়াও, খুন, হত্যা-আর তার মূল হোতা তো এখানেই বসে আছে।” বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ‘দুর্নীতির’ জন্য সমালোচিত তারেককে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডন যান তিনি। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তিনি এখনো সেখানেই রয়েছেন। একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক প্রবাসে দলের বিভিন্ন সভায় বিতর্কিত বক্তব্যও দিয়ে আসছিলেন। তার সেসব বক্তব্যের কারণে দেশে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির কয়েক ডজন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনতে গত এপ্রিলে জারি করা হয় ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিস’। লন্ডন থেকে তারেকের নির্দেশেই চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে বিএনপি জোটের আন্দোলনে ব্যাপক নাশকতা চালানো হয় বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভিযোগ। PMO_3102--02সেই নাশকতা প্রসঙ্গে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে এবং এর নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিচার করা হবে। জ্বালাও-পোড়াও, খুন-হত্যার হোতা তো এখানেই আছে। এতিমের অর্থ যারা চুরি করে খেয়েছে, তাদেরও বিচার হবে।” বিভিন্ন সময়ে বিএনপির ভারতবিরোধী অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “যেটাকে গোলামি গোলামি চুক্তি বলতে বলতে গলা শুকিয়ে মরেছে, আবার সেটাকেই এখন সবাই সমর্থন করে। তো ভারতের প্রাইম মিনিস্টার যখন গেল, উনি এখানে ডেমোনস্ট্রেশন দেন... উনার মা তো যেয়ে দুই হাত দিয়ে মোদীর হাত ধরে আছে।” বিএনপিনেত্রীর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, “কেন এত খোশামোদি তোষামোদি, কিসের আশায়?” ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ শেখ হাসিনা বলেন, “বছরের শুরুতে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিএনপির ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড না হলে প্রবৃদ্ধি ৭ হতো।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী ভাগনি টিউলিপসহ উপস্থিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি লেবার দলের মাইক গ্যাপস, জো স্টিভেনস, ওয়েস স্ট্রিটিং ও কনজারভেটিভ দলের এমপি পল স্কালির হাতে ফুলের তোড়া ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইংরেজি সংস্করণ তুলে দিয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় টিউলিপ বলেন, ‘কখনো ভাবিনি এ রকম একটি অনুষ্ঠানে নিজের খালার হাত থেকে ফুল নেব। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন ছাড়া আমি ব্রিটিশ এমপি হতে পারতাম না।’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। ১৫.০৬.২০১৫