ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ১৭:০৩:০৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নবজাতক সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্কট দেশে

প্রকাশিত : ০১:৩৭ পিএম, ২০ জুন ২০১৫ শনিবার | আপডেট: ০১:৩৭ পিএম, ২০ জুন ২০১৫ শনিবার

fvfv_0স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : দেশে নবজাতকদের সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্কট রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের প্রতি ১০ হাজার জনের জন্য গড়ে মাত্র ৫ জন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ রয়েছে। তবে এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাসে বাংলাদেশের ব্যাপক সাফল্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের অবস্থা’ শীর্ষক সেভ দ্য চিলড্রেন পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারের কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর এক তৃতীয়াংশেরও কম ‘ইএনজি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ রয়েছে। সরকারী প্রতিশ্রুতি পূরণে সব স্বাস্থ্যকর্মীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। এলাকাভিত্তিক কিছু তারতম্যও রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রতি ১০ হাজার জনের জন্য মাত্র ১ জন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ রয়েছে। রংপুর বিভাগে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ রয়েছে প্রতি ১০ হাজার জনের জন্য ১৬ জন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ৩০ থেকে ৬০ ভাগ নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারে। সে জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের জন্মের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নবজাতকের অত্যাবশ্যকীয় সেবা (ইএনজি) বিষয়ে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে নবজাতকের বাড়ি পরিদর্শন করার জন্য সুপারিশ রয়েছে। ‘ইএনজি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীই পারে সঠিকভাবে বুকের দুধ পান করানো, পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং শিশুকে উষ্ণ ও শুকনো রাখা বিষয়ে নতুন মাকে শেখাতে। এদিকে বিবিসি বাংলা বলছে, পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার কমানো ও সন্তান জন্মদানের সময় মায়েদের মৃত্যুর হার ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। দ্য পার্টনারশিপ ফর ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ নামে এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে। প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০টি অনুন্নত ও দরিদ্র দেশের তালিকা দেয়া হয়েছে। যারা শিশু ও মায়েদের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে তাদের আর্থিক সামর্থ্যরে তুলনায় অনেকদূর এগোতে সমর্থ হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এতে বলা হচ্ছে, গত ১২ বছরে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার কমিয়েছে ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে এই একই সময় বাংলাদেশে প্রতি লাখে জন্মে মাতৃ মৃত্যুর হার কমেছে ৬৯ শতাংশ। এই সাফল্যের জন্য সবচাইতে বড় কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে, সরকারের বিস্তৃত টিকা দান কর্মসূচি ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে। সেই সঙ্গে সরকারী-বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার সফল পার্টনারশিপ, যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতি এবং মেয়েদের শিক্ষায় উন্নতির বিষয়টিও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মা ও শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শুধু আমাদের একার পক্ষে শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব নয়। সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। ২০.০৬.২০১৫