ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১৩:১৯:১০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

হরতালে বন্দি চার কোটি পরীক্ষার্থীর জীবন

প্রকাশিত : ০২:০৮ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৩ সোমবার | আপডেট: ০২:০৮ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৩ সোমবার

WN_2--Picস্টাফ করেসপন্ডেন্ট,উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : আবারও হরতালে বন্দি হয়ে পরেছে প্রায় চার কোটি পরীক্ষার্থীর জীবন৷ চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে শিক্ষাজীবন নিয়ে৷ ১৮-দলীয় জোটের ৬০ ঘন্টা ও সর্বশেষ ৮৪ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচির কারণে ক্লাস-পরীক্ষা পিছিয়ে সংকটের মুখে পড়েছে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় চার কোটি পরীক্ষার্থী৷ এ মুহূর্তে দিশাহীন হয়ে পড়েছে চলমান জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার প্রায় ১৯ লাখ পরীক্ষার্থী৷ বিরোধী দলের ডাকা হরতালের কারণে গত সপ্তাহে এক দফায় পরীক্ষা পেছানোর পর আবার ১০, ১১, ১২ এবং ১৩ নভেম্বরের পরীক্ষা পেছাতে হয়েছে৷ ফলে পরীক্ষা প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা হবে কি হবে না তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বদ্বে দিন কাটছে তাদের৷ এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা৷ তারা সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন৷ এদিকে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হবে খুদে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি)৷ এ পরীক্ষায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেবে৷ যাদের সবার বয়স ৯ থেকে ১১ বছরের মধ্যে৷ রাজনৈতিক অস্থিরতায় বেশ কয়েকবার জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষা পেছানোয় পিএসসির খুদে শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষা নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে৷ জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হবে কি হবে না তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছে তারা৷ এর আগে পিছাতে হয়েছে ও লেভেল এবং এ লেভেলের পরীক্ষাও৷ আগামী ২১ নভেম্বর থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা৷ ৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার অনুরোধ করেছেন৷ কিন্তু এসব পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সবাই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে৷ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন বলেছেন, 'বিরোধী দলের কাছে অনুরোধ করি, খুদে শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধার মুখে ফেলবেন না৷ হরতালে চারদিকে যেভাবে বোমা, গুলি, আগুন জ্বালানো হচ্ছে এতে শিশুর মানসিক বিপর্যয় হতে পারে৷ ২০ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের উন্মুক্ত পরিবেশ দিন৷ তারা সবার সন্তান৷' অন্যদিকে হরতালের কারণে স্থগিত করতে হয়েছে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সেশনের পরীক্ষা৷ পরীক্ষা পেছানোয় সেশনজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা৷ শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সবকিছুই পিছিয়ে যাবে৷ নতুন সেশনের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করতে সময় লাগতে পারে আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত৷ ইতোমধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে৷ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষাসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে৷ জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম দিন সারা দেশের সব শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে নতুন বই দেওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে৷ বই ছাপানো সম্পন্ন হলেও হরতালের কারণে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো যাচ্ছে না নতুন বই৷ এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, 'পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই সমস্যার মুখে পড়েছে৷ নভেম্বর ও ডিসেম্বর পরীক্ষার মাস৷ কিন্তু এ সময়েই শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ আমরা সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি৷' গত এক বছরের শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে অর্থাত্‍ চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশজুড়ে ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা৷ ফলে শুরু থেকেই শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারেনি৷ অস্থিরতার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা৷ তখন হরতালের কারণে এসএসসিতে ছয় দিনের পরীক্ষা পেছাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ৷ এর পর এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত হয় উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা৷ এ পরীক্ষাও আট দিন পেছানো হয়৷ ১১ নভেম্বর'২০১৩