কন্যাসন্তানের দৃষ্টিতে ‘বাবা’ : বাবাই মূল আদর্শ
প্রকাশিত : ০১:৩১ পিএম, ২৪ জুন ২০১৫ বুধবার | আপডেট: ০২:০২ পিএম, ২৪ জুন ২০১৫ বুধবার
বাবা এক নির্ভরতার নাম; বিশ্বাসের নাম; প্রেরণার নাম। একজর বাবা সন্তানের মাথার ওপর থাকেন বটের ছাঁয়া হয়ে, নির্ভরশীলতার প্রতীক হয়ে।
সেই বাবাকে নিয়েও একটি বিশেষ দিবস আছে। যেমনি আছে মা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। এবছর ২১ জুন বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়েছে।
‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু হয় গত শতাব্দীর প্রথমদিকে। ধারণা করা হয়,১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এই দিনটি পালিত হয়।
আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের একজন নারীর মাথাতেও বাবা দিবসের ধারণাটি আসে। যদিও তিনি ১৯০৮ এর ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না।
ডড এই ধারনাটা পান এক গির্জায় পুরোহিতের বক্তব্য থেকে। সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলেছিলেন। এসব কথা শুনে ডডের মনে হয়,তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে পরের বছর ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে ‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু করেন।
আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দ্বায়িত্বশীল এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা শুরু হয়। পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে দিবসটির সূচনা। সন্তানের কাছে বাবা বন্ধুর মতো। কারো বাবা পথপ্রদর্শক। কারো জীবনে বাবাই মূল আদর্শ। এই বিশেষ দিবসে অনেকেই বাবাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনেক দেশে কার্ডও উপহার দেওয়া হয়। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তাঁরা হয়তো আকাশে তাকিয়ে অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি খুঁজে ফেরেন।
সন্তানের চোখে বাবা দিবসটি কেমন,বিশেষ করে কন্যাসন্তানের কাছ তার বাবা কেমন তা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী উইমেননিউজকে জানিয়েছেন তাদের মতামত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাজেদুল হক তানভীর।
স্টেট ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর বিজনেজ স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিয়া হাসিন রিতি বলেন, 'তোমাকে নিয়ে কবিতা নাকি কোন গল্প লিখবো তা বুঝতে পারছি না। তোমায় নিয়ে কোন কিছু লিখেই শেষ করা যাবে না। আসলে ‘বাবা’ এই শব্দটির মধ্যে রয়েছে অনেক মায়া, ভালবাসা। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক আসলেই অন্য রকম। আমার কাছে বাবা মানে, যার কাছে সকল আবদার অনায়েশে প্রকাশ করা যায়। সকল সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। আমার বাবা শত কষ্টের মাঝে থাকলেও আমাদের বুঝতে দেন না। শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেন। বাবা ছোট বেলা থেকে আজ পর্যন্ত কখনও তোমাকে আমার চোখের আড়াল করতে দেইনি এবং জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তোমাকে আড়াল করব না। আমার বাবা আমার আদর্শ। আমি সব সময় বাবার মত সৎ এবং সাহসী হওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ্র কাছে আমার একটাই প্রর্থনা তোমাকে যেন আমার চোখের আড়াল না করে। বাবা তোমাকে আমি আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস দিয়ে ভালোবাসতে চাই। আল্লাহ্ তোমাকে সবসময় ভাল রাখুক।'
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা নন্দী বিথী বলেন, ‘বাবা ডাকটার মাঝেই লুকিয়ে থাকে গভীর ভালবাসা, নিরাপত্তা, নির্ভরতা। এই পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি আমার বাবা। আমার বাবা আমার পথপ্রদর্শক, আমার হিরো। বাবা তোমাকে নিয়ে কোন কিছু লিখেই শেষ করা যাবে না। জীবনে যত বাধাই এসেছে তুমি সবসময় আমার পাশে থেকেছ। রাগ করেছ ঠিকই কিন্তু সব থেকে বেশি তুমিই ভালোবাসো। আমি তোমাকে খুব ভালবাসি বাবা।'
ব্রাক ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ হতে সদ্য স্নাতক পাশ করা মুসরাত তাবাসসুম বলেন, 'আমার কাছে বাবা দিবস মানে আলাদা কোন দিন নয়। যার হাত ধরে হাঁটতে শেখা তাঁর প্রতি ভালবাসা প্রকাশের জন্য একটি দিন যথেষ্ট নয়। আমার বাবা সব সময় একজন ভাল বন্ধু হয়ে আমার পাশে থেকেছেন। আমার খুশির জন্য তিনি তাঁর অনেক সুখ বিসর্জন দিয়েছেন। মনে কষ্ট থাকলেও তা কখনও প্রকাশ করেন নি তিনি। শুধু মাত্র একজন আদর্শ পিতা হিসেবেই নয়,তিনি আমার ভাল বন্ধু,আমার এগিয়ে চলার প্রেরণা। শুধু বাবা দিবসেই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষণে বলতে চাই “আব্বু তোমাকে খুব ভালবাসি।” সবশেষে সকল বাবাদের জন্য রইল অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।'
২৪.০৬.২০১৫'
স্টেট ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর বিজনেজ স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিয়া হাসিন রিতি বলেন, 'তোমাকে নিয়ে কবিতা নাকি কোন গল্প লিখবো তা বুঝতে পারছি না। তোমায় নিয়ে কোন কিছু লিখেই শেষ করা যাবে না। আসলে ‘বাবা’ এই শব্দটির মধ্যে রয়েছে অনেক মায়া, ভালবাসা। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক আসলেই অন্য রকম। আমার কাছে বাবা মানে, যার কাছে সকল আবদার অনায়েশে প্রকাশ করা যায়। সকল সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। আমার বাবা শত কষ্টের মাঝে থাকলেও আমাদের বুঝতে দেন না। শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেন। বাবা ছোট বেলা থেকে আজ পর্যন্ত কখনও তোমাকে আমার চোখের আড়াল করতে দেইনি এবং জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত তোমাকে আড়াল করব না। আমার বাবা আমার আদর্শ। আমি সব সময় বাবার মত সৎ এবং সাহসী হওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ্র কাছে আমার একটাই প্রর্থনা তোমাকে যেন আমার চোখের আড়াল না করে। বাবা তোমাকে আমি আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস দিয়ে ভালোবাসতে চাই। আল্লাহ্ তোমাকে সবসময় ভাল রাখুক।'
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা নন্দী বিথী বলেন, ‘বাবা ডাকটার মাঝেই লুকিয়ে থাকে গভীর ভালবাসা, নিরাপত্তা, নির্ভরতা। এই পৃথিবীতে আমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি আমার বাবা। আমার বাবা আমার পথপ্রদর্শক, আমার হিরো। বাবা তোমাকে নিয়ে কোন কিছু লিখেই শেষ করা যাবে না। জীবনে যত বাধাই এসেছে তুমি সবসময় আমার পাশে থেকেছ। রাগ করেছ ঠিকই কিন্তু সব থেকে বেশি তুমিই ভালোবাসো। আমি তোমাকে খুব ভালবাসি বাবা।'
ব্রাক ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ হতে সদ্য স্নাতক পাশ করা মুসরাত তাবাসসুম বলেন, 'আমার কাছে বাবা দিবস মানে আলাদা কোন দিন নয়। যার হাত ধরে হাঁটতে শেখা তাঁর প্রতি ভালবাসা প্রকাশের জন্য একটি দিন যথেষ্ট নয়। আমার বাবা সব সময় একজন ভাল বন্ধু হয়ে আমার পাশে থেকেছেন। আমার খুশির জন্য তিনি তাঁর অনেক সুখ বিসর্জন দিয়েছেন। মনে কষ্ট থাকলেও তা কখনও প্রকাশ করেন নি তিনি। শুধু মাত্র একজন আদর্শ পিতা হিসেবেই নয়,তিনি আমার ভাল বন্ধু,আমার এগিয়ে চলার প্রেরণা। শুধু বাবা দিবসেই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষণে বলতে চাই “আব্বু তোমাকে খুব ভালবাসি।” সবশেষে সকল বাবাদের জন্য রইল অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।'
২৪.০৬.২০১৫' 