ঢাকা, শনিবার ১৮, জুলাই ২০২৬ ১৪:১২:৪৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

উপকূলের নারীরা কর্মমুখী হচ্ছেন

প্রকাশিত : ০৬:১১ এএম, ২৬ জুন ২০১৫ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:১১ এএম, ২৬ জুন ২০১৫ শুক্রবার

krস্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, বরগুনা : বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা ঘরের পাশাপাশি বাইরেও পুরুষের সঙ্গে সমানতালে কাজ করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর তাগিদে নারীরা নানামুখী পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। বর্তমানে তারা চাকরি, কৃষি, মাছ চাষ ও মাছ ধরা, ব্যবসা এমনকি দিনমজুরের কাজে পুরুষের সাথে সমান ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা পরিবার ও সংসারের প্রয়োজনে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দিন-রাত কাজ করে চলেছেন। বরগুনা সদর উপজেলাসহ পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় কয়েক বছরে বেশিসংখ্যক নারী কাজের জন্য ঘরের বাইরে যাচ্ছেন। বাইরের কাজ শেষে তারা ঘরেও পরিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় নারীরা উন্নয়ন কর্মী হিসেবে চাকরি, ব্যবসা, হস্তশিল্প, মৎস্য চাষে সফলতার সাথে কাজ করছেন। দরিদ্র নারীরা কৃষি কাজ, মাছ ধরা, দিনমজুরি কাজে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছেন। সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামের সফল কৃষক নাসিমা বেগম বলেন, তার উৎপাদিত ফসল তার স্বামী বাজারে বিক্রি করেন। দু’জনার পরিশ্রমে সংসারের অভাব দূর হয়েছে। ফুলঝুড়ি ইউনিয়নরে সবিতা রাণী হস্তশিল্পের কাজ করেন। প্রতিদিন হাড়ভাঙা খাটুনি। তবুও নিজের উপার্জনে আত্মতৃপ্তি পান বলে জানান। স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস’র গবেষনা অনুযায়ী উপকূলের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো থেকে শতকরা ৩০ ভাগ নারী এখন কর্মমুখী। দরিদ্র পরিবারগুলোর ৬০ শতাংশ নারীই কোন না কোন অর্থনৈতিক উপার্জনক্ষম কাজে নিয়োজিত আছে। তবে সমান কাজ করেও নারীরা নানা বিড়ম্বনা ও মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট শাহাবুদ্দিন পাননা। তাদের সমীক্ষায় নারী শ্রমিকদের ৬১ শতাংশ দৈনিক ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পেয়ে থাকেন এবং ৩২ শতাংশ দৈনিক ১০০ টাকার কম মজুরি পান। অন্যদিকে, ৫৬ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছেন। পেশায় দিনমজুর সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের শেফালী বেগম জানালেন, গ্রামের কাঁচাসড়ক মেড়ামতের কাজ করে দৈনিক ১৫০ টাকা করে মজুরি পান, অন্যদিকে একই কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা পাচ্ছেন ২০০-২৫০ টাকা। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নি বলেন, নারীদের উন্নয়নে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। নারী শ্রমিকদের জন্য জাতীয়ভাবে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পণ্য বাজারজাতকরণ সুবিধা, উপার্জিত অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা, দক্ষতা বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান এবং উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করলে নারীরা আরও উদ্যোগী ও কর্মমুখী হবে। আগে নারীরা ঘরের বাইরে কাজে যেত না, সেটা এখন নেই বললেই চলে। ২৬.০৬.২০১৫