প্রিন্সেস ডায়ানার ৫৮তম জন্মদিন আজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৪৩ পিএম, ১ জুলাই ২০১৯ সোমবার
মোহনীয় রূপ, ভুবনভোলানো হাসি আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা উজাড় করে যিনি বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের নজর কেড়েছিলেন, তিনি প্রিন্সেস ডায়ানা। আজ তার ৫৮তম জন্মদিন।
১৯৮১ সালে ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এই সেলিব্রেটি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তায় স্বামীকেও ছাড়িয়ে যান তিনি। ডায়ানার রাজকীয় নিয়ম বহির্ভূত স্বাধীনচেতা মনোভাব, বিবাহ বিচ্ছেদ ও প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে বিভিন্ন সময় তার নাম উঠে আসে বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে। কিন্তু তার জনপ্রিয়তায় যে এতোটুকু ভাটা পড়েনি তার প্রমাণ মিলেছিলো মৃত্যুর পর বিশ্বের লক্ষ্য মানুষের সমাগমে।
পুরো নাম লেডি ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার। ১৯৬১ সালের পহেলা জুলাই ইংল্যান্ডের নরফোর্কে এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীনচেতা স্বভাবের এই মেয়েটি। ডায়নার নান্দনিক সৌন্দর্য্য ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব চোখ এড়ায়নি ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের।
১৯৮১ সালের ২৯ জুলাই এক রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই নান্দনিক জুটি। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই বিয়ের অনুষ্ঠান দেখেছিলো বিশ্বের প্রায় ৭৫ কোটি মানুষ।
তাদের দুই ছেলে উইলিয়াম ও হ্যারি ব্রিটিশ মসনদের উত্তরাধিকারী হলেও দু'জনকে অন্যান্য শিশুদের মতো সাধারণ জীবনে যাপনে অভ্যস্ত করার পক্ষে ছিলেন ডায়না। রাজকীয় নিয়ম বহির্ভূত তার এমন অনেক কাজের কারণেই রাণী এলিজাবেথের রোষানলের মুখে পড়েন তিনি। কিন্তু প্রাসাদের গণ্ডি পেরিয়ে মাঝেই মাঝেই ছেলেদের নিয়ে অবকাশ কাটাকে দূরে কোথাও বেড়িয়ে পড়তেন এই মা।
মিষ্টি হাসি আর সমাজসেবামূলক কাজের কারণে বিশ্বময় সবার কাছে অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন ডায়না। ল্যান্ডমাইনবিরোধী প্রচারণা, এইডস বিষয়ক সচেতনতাসহ বিভিন্ন মানবিক ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বিশ্বের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোও ভ্রমণ করেন তিনি।
এভাবে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তায় রাজ পরিবারের সব সদস্যকে ছাড়িয়ে যায় তার নাম। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এই সেলিব্রেটি ফ্যাশনের জগতেও পান আকাশচুম্বী খ্যাতি। তাকে বলা হতো বিশ্বের সর্বাধিক আলোকচিত্রিত নারী।
চার্লসের বিশ্বাসঘাতকতা, রাজপরিবারের সঙ্গে শীতল সম্পর্কের কারণে ১৯৯৬ সালে ২৮ আগস্ট চার্লসের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ডায়ানার। এরপর রানী এলিজাবেথ তার প্রিন্সেস উপাধি কেড়ে নেন। তখন থেকে ডায়না গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যেতে চাইলেও ক্যামেরার ফ্ল্যাশ তার পিছু ছাড়েনি। নতুন প্রেম কাহিনী ও চার্লসের সঙ্গে সংসারের বিভিন্ন কেলেঙ্কারির গুজব ছড়াতে উঠেপড়ে লাগে তৎকালীন গণমাধ্যমগুলো।
পাপারাজ্জি থেকে এই পালিয়ে বাঁচতে চাওয়ার নীতিই হয়তো কাল হয়েছিলো ডায়ানার জীবনে। এ সময় তিনি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মিশরীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক দোদি আল ফায়েদের সাথে। ১৯৯৭ সালের আগস্টে ফ্রান্সে প্রমোদ ভ্রমণে এসেছিলেন ডায়ানা ও ফায়েদ। ৩১ আগস্ট সকালে ‘হোটেল রিৎজ’ থেকে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িতে করে বেরোতেই পথে তাদের ধাওয়া করে পাপারাজ্জিদের একটি দল। তাদের চোখে ধুলো দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি আকস্মিক মোড় নিতে গিয়েই ঘটলো অঘটন। একটি টানেলের রাস্তায় তাঁদের বহনকারী গাড়িটি অন্য গাড়ির সাথে সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দোদি আল ফায়েদ ও গাড়িটির চালক। কোনোমতে বেঁচে যান ডায়ানার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। ওদিকে দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত ডায়ানাকে দ্রুতই একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শরীরে অজস্র জখম নিয়ে তীব্র যন্ত্রণার সাথে কয়েক ঘন্টার লড়াই শেষে ওই দিনই পরপারে পাড়ি জমান প্রিন্সেস ডায়ানা।
২০ বছর বয়সে সোনালী ছোটচুলো সে মেয়েটিকে বিশ্ববাসী চিনেছিলো ব্রিটেনের রাজবধু হিসেবে। তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজপ্রাসাদ ছাড়বার পরও তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন ২২ বছর হতে চললো। এখনো তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী, আজও তাঁর বেদনাবিধুর বিদায় অশ্রুসিক্ত করে কোটি ভক্তকে। অসহায়ের কাছে ‘জনগণের যুবরানী’, ফ্যাশন সচেতন বিশ্বের কাছে স্টাইল আইকন আর সন্তানদের কাছে একজন মমতাময়ী মা- এই তিন কারিশমায় ব্রিটেনের (সাবেক) রাজবধুর পরিচয়ের বাইরেও তিনি যেন বিশেষ কিছু! শুভ জন্মদিন প্রিয় লেডি ডায়ানা ফ্রান্সেস স্পেন্সার।
