ঢাকা, রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬ ১০:৩৫:৪৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ধর্ষণ প্রতিরোধে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:২১ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৯ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ প্রতিরোধে নারী সমাজের পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের পুরুষ সমাজকেও বলবো ধর্ষণটা তো পুরুষ সমাজ করে যাচ্ছে। এই ধরনের জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে পুরুষ সমাজেরও বোধহয় একটা আওয়াজ তোলা উচিত। যারা এই ধরনের জঘন্য কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা উচিত। খালি নারীরাই চিৎকার করে যাবে নাকি? আমরা নির্যাতিত হয়ে সব চিৎকার করব আর নির্যাতনকারী ও তাদের স্বজাতি যারা আছে তাদেরও এব্যাপারে একটু সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মনে করি।

সোমবার বিকেলে গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। চীনে সরকারি সফরের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারী ধর্ষণের কথা তুলে ধরে বলেন, দুভার্গ্য হলো যে, ধর্ষণটা কিন্তু সবসময় সব দেশেই আছে। এখন একটা জিনিস অন্তত পক্ষে মেয়েরা সাহস করে কথাটা বলে। আমাদের দেশে এমন একটা সময় ছিল, সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই বলতেই পারতো না। আর এ বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা কিন্তু নিচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে এদেরকে ধরা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে নিচ্ছি।

শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণের মতো নোংরা-জঘন্য কাজ যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই (সামিয়া) যে শিশুটাকে ধর্ষণ করল তাকে কিন্তু ঠিকই পুলিশ খুঁজে বের করেছে। এবং গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সে স্বীকারও করেছে। এই ধরনের নোংরা জঘন্য কাজ যারা করছে এরা মানুষ না। কাজেই এদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা সব নিবো।

গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যদি আমরা উন্নতি করতে চাই তাহলে এনার্জি একটা বিষয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি কতটুকু বেড়েছে? এখন আমরা ৮ দশমিক ১ শতাংশে উন্নতি করেছি। এর কারণ এনার্জি সেক্টরের উন্নতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এলএনজি আমদানির খরচ তুলে ধরে বলেন, এটা সত্য যে এলএনজি আমদানির জন্য খরচ বেশি পড়ে। তাই এলএনজি আমদানিতে কতো টাকা খরচ হয় সে হিসেবটাও আমাদের জানতে হবে। প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে খরচ পড়ে ৬১.১২ টাকা। আমরা সেটা কত দামে দিচ্ছি? ৯.৮০ টাকায় দিচ্ছি। এই দাম বাড়ানোর পরেও প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। এর চেয়ে আর কত কম দামে দেয়া যায়?

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পর অর্ধদিবস হরতাল ও আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আন্দোলনের মজার ব্যাপার আছে। বাম আর ডান মিলে গেছে। একসুরে। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আছে। আরাম আয়েশে আছে বলে ভুলে গেছে অতীতের কথা। বহুদিন পর হরতাল পেলেন তো, পরিবেশের জন্য ভালো। আন্দোলন যেহেতু চলছে, তাই যে দামে কিনছি সে দামে গ্যাস বিক্রি করব। ৯ টাকাকে ৬১ টাকা করে দেই। তাহলে আমাকে আর ভর্তুকি দিতে হবে না।

অর্থনৈতিক উন্নতি চাইলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, বিদেশেও মেনে নেয়। কেননা গ্যাসের দাম যদি না বাড়ানো হয় হয়, জিডিপি গ্রোথ যাতে না বাড়ে, সে জন্য এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়ে অর্থনৈতিক খাতটাকে সংকুচিত করতে হবে। সেটা কী ভালো হবে।

গ্যাস নিয়ে বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব এসেছিল। আমি নাকচ করে দিয়েছি। এ কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ পরিমাণ ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে পারিনি। অথচ খালেদা জিয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে ভারতে গ্যাসের পাইপলাইন যাওয়ার জন্য ২০০৪ সালে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। অথচ খালেদা জিয়া সেটি বাতিল করে দেন। কিন্তু তখন আমি থাকলে কী করতাম? আমি থাকলে আমার ভাগটা আমি রেখে দিয়ে তারপর বাকি গ্যাস পাঠাতাম। তখন গ্যাস পাওয়া গেলে আমাদের অর্থনীতি লাভবান হত।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চীনের অবস্থান সংক্রান্ত এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বলেছেন- বিষয়টি দেখবেন, বিবেচনা করবেন, এটা কি সুখবর মনে হচ্ছে না? চীন সবসময় মনে করছে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। এজন্য তাদের যা করণীয় তারা তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে ৩৫ করা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৫, ৩৬ ও ৩৭তম বিসিএসে বয়সভেদে পাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়; বেশি বয়সী পরীক্ষার্থীদের চেয়ে কম বয়সী পরীক্ষার্থীদের পাসের হার বেশি রয়েছে। তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো উচিত কিনা সেটা দেশের জনগণকেই ভেবে দেখতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ দল অনেক উন্নতি করেছে। আমি আমার খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ দিই। আমি কখনই খেলোয়াড়দের নিরুৎসাহিত করি না। চীনে বসে সরকারি কাজ করার পাশাপাশি আমি খেলা দেখেছি। মাঠে কী সবাই খুব খারাপ খেলেছে? খেলেনি।

সরকারপ্রধান বলেন, বিভিন্ন নামি-দামি দলের জাঁদরেল সব খেলোয়াড়দেরকে তারা মাঠে মোকাবেলা করেছে। ৩৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৩৩ রান তোলাটা মোটেও সহজ না।

এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এটা ঠিক যে চীন বরাবরই মিয়ানমারের সঙ্গে আছে। কিন্তু বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যে একটা সমস্যা, এটা তারা উপলব্ধি করতে পারছেন।

-জেডসি