জলাবদ্ধ রাজধানী : বিপাকে নারী ও শিশুরা
প্রকাশিত : ১১:৩৫ এএম, ২৮ জুন ২০১৫ রবিবার | আপডেট: ১২:৩২ পিএম, ২৮ জুন ২০১৫ রবিবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : বৃষ্টির কারণে জলজট এবং স্থায়ী–অস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবল নাকাল রাজধানীবাসী। অআর এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে নারী ও শিশুদের।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ২৭ মিলিমিটারের বৃষ্টিতে প্রায় সব এলাকা তলিয়ে গেছে পানির নিচে। তুলনামূলক উঁচু এলাকাও তলিয়ে গিয়েছিল।
জলাবদ্ধতার কারণে গতকাল সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীতে দিনভর ছিল যানজট, ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। বিশেষত স্কুল ও কোচিং ফেরত শিশু ও তাদের মায়েদের এবং কর্মজীবী নারীদের বেশ ভাগান্তিতে পরতে হয়। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, পরিমাণ ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে বৃষ্টিপাতের ধরন। ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলো ভারী বৃষ্টি, ২২-৪৪ মিলিমিটার মাঝারি ধরনের ভারী, ৮-২২ মিলিমিটার মাঝারি এবং এর নিচে হলে তা হালকা বৃষ্টি বলে অভিহিত করা হয়। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, গতকালের বৃষ্টি ছিল মাঝারি ধরনের ভারী। আর এ সময়ে অতি ভারী কিংবা হালকা বৃষ্টি স্বাভাবিক।
কিন্তু সেই স্বাভাবিক বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়ছে নগরবাসী।
এ দিকে ঢাকায় ১১ জুন ৬৪ মিলিমিটার, ১৪ জুন ৫ মিলিমিটারের বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও জলজটের সৃষ্টি হয়। তা স্বীকারও করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াসার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
গতকাল শনিবার ভোর থেকে ছিল গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৫ মিলিমিটার। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এর সঙ্গে যোগ হয় আরও ১২ মিলিমিটার।
এমন বৃষ্টিতেই মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, বেইলি রোডের মতো তুলনামূলক উঁচু স্থানেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পুরান ঢাকা, ডেমরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা, বৃহত্তর মিরপুরও বাদ যায়নি। মিরপুরের অধিবাসী রোকেয়া রহমান অঞ্জু বলেন, কি আর করবো। একে বৃষ্টি তার ওপার জ্যাম। অফিস তো যেতেই হবে। একদম ভিজে গেছি। রিক্সা বা অন্য কোনো বাহন পাচ্ছি না। পায়ে হেটেই যেতে হবে মনে হচ্ছে।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে দৈনিক বাংলার মোড় পর্যন্ত পানি জমে থাকতে দেখা যায়। সাধারণ বীমা ভবনের সামনের রাস্তাসহ দিলকুশার বিভিন্ন এলাকা, গুলিস্তান পার্কের পাশের রাস্তা থেকে জয়কালী মন্দির পর্যন্ত পানিতে সয়লাব ছিল। তলিয়ে ছিল পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, শ্যামবাজার, সোয়ারী ঘাট, পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা মুগদাপাড়া, বাসাবো, সিপাহীবাগ, গোড়ান, রামপুরা।
এসময় বাচ্চাকে নিয়ে কোচিং থেকে ফিরছিলেন রামপুরার অধিবাসী নূর আফসারা রিমি। তিনি বলেন, বাচ্চা ময়েটাকে নিয়ে কি যে কষ্টে আছি। প্রায় এক ঘন্টা অপেক্ষা করে একটা রিক্সা পেয়েছি। সারা পথে জ্যাম। তার ওপর বৃষ্টি। কখন যে বাসায় পৌঁছাবো জানি না। তার ওপর মৌচাক থেকে রামপুরা পর্যন্ত পুরা রাস্তাই ভাঙ্গা।
এদিকে প্রগতি সরণি এলাকায় আগের বছরগুলোতে এমন জলাবদ্ধতা দেখা না গেলেও গতকাল ওই সড়ক ও যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় পানি জমতে দেখা গেছে।
ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, রাজধানীর পানি ধারণক্ষেত্রগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাম্প থাকা সত্ত্বেও সময়মতো নিষ্কাশন করা যায়নি। রাজারবাগ-শান্তিনগর ও আশপাশের এলাকায় জমে যাওয়া পানি ফেলার মতো খোলা জলাশয় বা জায়গা নেই। আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে জলাশয় ছিল। মুগদাপাড়ায়ও ছিল। সেগুলো এখন নেই। নগরের প্রাথমিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।
২৮.০৬.২০১৫
