ঢাকা, রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬ ১০:৩৬:২৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পাঁচ দিনে আশ্রয়হীন তিন হাজার রোহিঙ্গা: আইওএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৭ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আষাড়ের শেষ প্রান্তে সারা দেশে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকগুণ বেড়ে গেছে। গত ৪-৫ দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকার মানুষের ভোগান্তি ও ঝুঁকি বেড়েছে। এদিক থেকে এ বছর বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা। গত ৪-৫ দিনে ভারি বর্ষণ আর ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৩ হাজারের মতো রোহিঙ্গা আশ্রয়স্থল হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোহিঙ্গাদের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বসত ঘর।

গতকাল সোমবার এক ইমেইল বার্তায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এসব তথ্য জানিয়েছে। সরেজমিনে জরিপ চালিয়ে আইওএম কর্মকতা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা এই তালিকা প্রস্তুত করেছে।

আইওএম’র ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার তারেক মাহমুদের পাঠানো এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৫ দিনের টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো বাসাতে উখিয়া ও টেকনাফে ভূমিধসে রোহিঙ্গাদের ১ হাজার ১৮৬টি, বন্যায় ২১৬টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ১ হাজার ৮৪০টি বসত ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৫৩৪ জন রোহিঙ্গা। এই কদিনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৩৯১টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক এই অভিবাসন সংস্থাটির মুখপাত্র জর্জ ম্যাকলয়েড বলেছেন, ‘বাংলাদেশে বর্ষার মাত্র অর্ধেক সময় পার হয়েছে। সামনে শ্রাবণ-ভাদ্র আরও দুমাস পুরো বর্ষাকাল। এই সময়টাতে রোহিঙ্গাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছুবে। গত ৩-৪ দিনে আমরা প্রায় ২ হাজার রোহিঙ্গাকে সহায়তা দিয়েছি। এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী কাল থেকে সামরিক-বৌদ্ধতন্ত্রের প্রচারে রাখাইনে রোহিঙ্গা-বিদ্বেষ দানা বাঁধে। যার মহাবিস্ফোরণ ঘরে ২০১৭ সালের আগস্টে। প্রায় দুই বছর আগে সেই বিদ্বেষের জোরালো হলে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসে নির্মম নিধনযজ্ঞ। দেশটির সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ কার্যক্রম সংঘটিত হয়। ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত আর সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ইতিচাক কোনও সাড়াই দিচ্ছে না মিয়ানমার।

-জেডসি