উইমেননিউজের সেমিনারে বক্তারা : মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব
প্রকাশিত : ০৩:৩৯ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:২৫ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৫ মঙ্গলবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : নারী নির্যাতন শুধু নারী ইস্যু নয়, এটি জাতীয় ইস্যু। গণমাধ্যম সমাজের চোখ। তাই গণমাধ্যমের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে নারী নির্যাতন রোধ করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
মঙ্গলবার স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর কলাবাগানে অবস্থিত বিজয় ক্যাম্পাসে বাংলঅদেশের প্রথম নারী বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা উইমেননিউজ২৪.কম এবং নলেজ অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং ক্লাবের যৌথ আয়োজনে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যান্ড সিইও অ্যাডভোকেট এলিনা খান। বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি শান্তা মারিয়া, এসইউবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এ ওয়াই এম ইকরাম-উদ-দৌলাহ, এসইউবির জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ (জেসিএমএস) বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস প্রমূখ।
সেমিনারে এলিনা খান বলেন, নারী নির্যাতন ও বৈষম্যের গোড়াপত্তন হয় পরিবার থেকেই। নারী সদস্যদের অপেক্ষাকৃত আলাদা ভাবে দেখা হয়। পারিবারিক সম্পত্তি বন্টন, লেখাপড়া, চলাফেরা সব কিছুতেই নারীরা ভোগান্তির সম্মুখীন হয়।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কল্যাণে মানুষ সারা বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারছে, দেখতে পারছে। তাই গণমাধ্যম হল সমাজের চোখ। তিনি আরো বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। শুধুমাত্র গণসচেতনতা পারে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে। আর এ সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের যথেষ্ট করণীয় রয়েছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমই নারীর চরিত্র হরণ করতে পারে আবার নারীর অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ পালন করতে পারে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে একসাথে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নারীকে কেবল ‘নারী’ মনে না করে পরিবারের অংশ মনে করতে হবে। তাহলে নারী নির্যাতন অনেকাংশে কমে যাবে।
এ বিষয়ে সেমিনারের আরেক বক্তা সাংবাদিক ও কবি শান্তা মারিয়া বলেন, মধ্যযুগ থেকে নারী ধর্ষণ, নির্যাতন এবং বৈষম্যের শিকার। সে সময় কোন নারী ধর্ষণের শিকার হলে তাকে সমাজ থেকে বিছিন্ন করে রাখা হত, এমনকি দাহ করা হত। শত নির্যাতনের পরও নারীরা কোন প্রতিবাদ করত না। কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে সকলেই এখন নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সজাগ।
তিনি বলেন, যখন থেকে গণমাধ্যমে নারী অধিকার ও নির্যাতন নিয়ে লেখা শুরু হল তখন থেকেই নারী নির্যাতন ইস্যুতে সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধমে, সচেতনতামূলক প্রতিবেদনের মাধমে, টকশোর মাধ্যমে, বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে, বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
সাংবাদিক শান্তা মারিয়া বলেন, নারী নির্যাতন শুধু নারী ইস্যু নয়, এটি জাতীয় ইস্যু। তাই গণমাধ্যমের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের মাধ্যমে গণসচেতনা বৃদ্ধি করে নারী নির্যাতন রোধ করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীবাদী সমাজকে ভয় পায়। তাই তারা নারী উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার প্রয়াসে নিমজ্জিত। এসব নির্যাতনের বেড়াজাল থেকে উত্তরণের জন্য নারীদের প্রতিবাদী ও সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলী আহসান, জেসিএমএস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজীব সরকার, জেষ্ঠ্য প্রভাষক আফরোজা সোমা, প্রভাষক শেখ জিনাত শারমিন, প্রভাষক নূর-ই-মকবুল ফরচুন, প্রভাষক তানিয়া মুন, প্রভাষক মেহেনাজ রকি, জেসিএমএস বিভাগের শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকে।
০৭.০৭.২০১৫ 