ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ১০:৩০:৪৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অদিরা আমার ছবির সমালোচক : রানী

সালেহীন বাবু

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:০৬ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ১১:০৬ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার

সর্বশেষ বলিউডে ২০১৪ সালে মারদানি ছবিতে মারদাঙ্গা অভিনয় করে ভক্তদের কষ্টে জর্জরিত করে বলিউডকে হিচকি গুডবাই জানান। মূল বিষয় ছিল পারিবারিক। ২০১৫ তে জন্ম নেয় রানীর আদুরে কন্যা অদিরা। মেয়ে আদিরার কারণে রানি বলিউড থেকে দূরে সরে আসেন। যদিও এ অনুপস্থিতকালে তার জনপ্রিয়তা কমেনি একফোটাও। তার একহাজার ওয়াটের নির্মল হাসি, উচ্ছসিত ললনার ভাবাবেগ আর চিরসুখী অভিব্যাক্তির প্রয়াস রানীর ভক্তকুলকে রানী থেকে সরে যেতে দেয়নি। ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃকৌড়ে’ চিরায়ত–এ প্রবাদকে সত্য করে নতুন বছরে বলিউডে নতুন করে ইনিংস খেলতে নামছেন রানী মুখার্জি। নতুন ছবি ‘হিচকি’ নিয়ে ৪ বছর পর মিডিয়ার সামনে মুখ খুললেন বলিউডের সাবেক রানী। ইন্টারনেট অবলম্বনে রানীর মুখার্জির সাক্ষাৎকার তুলে ধরেছেন সালেহীন বাবু।

 


প্রশ্ন : প্রায় ৪ বছর ছবি থেকে দূরে, যেন নতুন করে আবার সব শুরু, মন কি সঙ্কিত না উদ্দীপ্ত ?
রানী মুখার্জি : আমি সঙ্কিত নই। আমি সবসময় বিশ্বাস একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয় বরং একজন সফল মানুষ হিসেবে সফলতা অর্জন করেছি। এখন এগিয়ে যেতে সমস্যা কোথায় ? সৃষ্টিকতার্র দয়া আর আমার ভক্তরা সবসময় আমার সঙ্গে আছেন। আমি জীবন থেকে একটি জিনিস শিখেছি জীবন পরিক্রমায় যে অবস্থাই সৃষ্টি হোক না কেন সে অবস্থাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। পরবর্তীতে সে অবস্থা দুরবস্থা হলেও কেটে যায়। কিন্তু কেউ যদি সে অবস্থার মুখোমুখি হতে ভয় পায়, এড়িয়ে চলে তাহলে তাকে আরও বেশি কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়।

 


প্রশ্ন : আপনার ক্যারিয়ারে স্বর্নালী অধ্যায়ের সূচনা ছিল কুচ কুচ হোতা হে (১৯৯৮), হিচকী ছবির মাধ্যমে কি সেই স্বর্নালী অধ্যায়ের নতুন করে সুচনা হবে?
রানী মুখার্জি : অবশ্যই এটা আমার জীবনের নতুন অধ্যায়। আমি অনুভব করছি আমার যাত্রা সবে শুরু হল। আমার মেয়ে আদিরা জন্ম নেওয়ার পর আমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাবা মারা যাওয়াতেও আমি একটা বড় হোচট খেয়েছি। এ সব কারণে আমি অনেকটাই মানসিক চাপে ছিলাম। নতুন আমার এ অধ্যায়ে আমার মেয়ে আদিরা আমার পাশে আছে। আমি আমার সাফল্যের পর্ব শুরু করেছিলাম ২২ বছর আগে, আবার শুরু করছি পরবর্তী ২২ বছরের কথা মাথায় রেখে। এক্ষেত্রে আমার মনে হচ্ছে আমি পুরোপুরি একটা স্বচ্ছ ইনিংস খেলতে যাচ্ছি।

 


প্রশ্ন : নতুন এ পর্বে রোমাঞ্চকর ব্যাপার কোনটি?
রানী মুখার্জি : আমার মেয়ে। সে যেভাবে বেড়ে উঠেছে সবকিছুই বুঝতে পারে, এমনকি সে আমার অভিনয় নিয়েও টুকটুক করে কথা বলে। বিষয়টি আমার কাছে একেবারেই নতুন। আমার অভিনয় নিয়ে বাবা যে মতামত দিত তা এখনও মনে পড়ে। এখন আমার বাবা নেই, আমার মেয়েই আমার ছবির আলোচক-সমালোচক।

 

প্রশ্ন : সঙ্গে তো আপনার বর আদিত্র চোপড়া তো আছেনই...।
রানী মুখার্জি : আদি আমার স্বামী, আমার বাচ্চা নয়। অতএব দুজনের মধ্যে পার্থক্য আছে।

 

প্রশ্ন : পার্থক্য কি? তবে কি আদি আপনাকে ভয় পায়?
রানী মুখার্জি : সেটা আদির কাছেই জানতে চাইবেন। আমার কাছে আদির দুই রূপ, একরূপ ঘরের স্বামীর,আরেক রূপ সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক হিসেবে। বাসায় সে আমার সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করলেও বাইরে তা সম্পূর্ণই ব্যতিক্রম। প্রযোজক হিসেবে ষোল আনা অভিনয় আদায় করে নেয় সে।

 


প্রশ্ন : কি মনে করে এমন স্নায়ু প্রতিবন্ধীর চরিত্রে অভিনয় করলেন।
রানী মুখার্জি : আমার কাছে ছবির পা-ুলিপিই সবকিছু। যদি ছবির কাহিনী ভাল হয়, তাহলে অভিনয় বা পরিচালনা সাদামাটা হলেও অসুবিধা নেই। এ ব্যাপার আদি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। ও আমাকে বলেছিল আদিরা আমাদের সঙ্গে সারাজীবন থাকবে, কিন্তু তুমি তোমার ভক্তদের আর নিরাশ করতে পার না। যদি হিচকি ছাড়া অন্য কোন ছবি হতো তাহলে আরও সময় নিতাম। যেহেতু এ চরিত্রটি ব্যতিক্রম সেহেতু রাজি হতে সময় নেই নি।

 

প্রশ্ন : ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে আদি কতটুকু পজেটিভ।
রানী মুখার্জি : আমি মনে করি আমার প্রতিটি পদক্ষেপে আদি সহযোগী না বরং আমার কাছে আর্শীবাদ। যখন দেখি ও আমারি প্রতিটি পদক্ষেপ, ভাবনাকে নির্দ্ধিধায় সমর্থন জানিয়েছে তখন নিজেকে আমি পৃথিবীর সবেচেয়ে ভাগ্যবতী মনে করি। এভাাবে আমি এগিয়ে যেতে পারব বহুদূর। আদিকে ইয়াশ আঙ্কেল আর আন্টি এভাবেই বড় করেছেন।

 


প্রশ্ন : আপনি হিচকির মাধ্যমে কামব্যাক করেছেন, কোন চাপ অনুভব করছেন?
রানী মুখার্জি : চাপ থাকাটাই তো সবচেয়ে ভাল। যদি কোন কাজে চাপ থাকে তাহলে সে কাজটিই সবচেযে ভালমত হয়। আপনি হলিউডের দিকে তাকালে দেখবেন তারা অভিনয় জীবনের সঙ্গে সত্যিকারের জীবনও জোরেসোরে চালিয়ে যাচ্ছেন, আর আমাদের বলিউডে একটা করলে আর একটা হয় না। অভিনয় করলে সত্যিকারের জীবনে কলহ সৃষ্টি হয়, এমনকি কোন কোন সময় অভিনয়কেই গুডবাই জানাতে হয়। সবার আগে দর্শক, ভক্তকুল। আর এ ভক্তকুলকে কখনই নিরাশার সাগরে ভাসিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়।

 


প্রশ্ন : ছবিও কিন্তু এক ধরনের জাদু...।
রানী মুখার্জি : আমি মনে করি যে ছবিতে ছবির গল্পের সঙ্গে অভিনয় যতœ করে করা হয়,মে ছবিই সফলতা পায়। তেমনি দর্শকও মনে রাখে সারাজীবন। সত্রিকার অর্থে দর্শকরাই ছবির স্রষ্টা। যত বেশি দর্শক ছবি দেখবে,ছবি তত বেশি ব্যবসা সফল হবে।

 


প্রশ্ন : আপনি কি এ ছবি নিয়ে চিন্তায় ছিলেন, বিশেষ করে এ ধরনের স্পর্শকাতর চরিত্র নিয়ে।
রানী মুখার্জি : অবশ্যই। যখন আপনি গতানুগতিক চরিত্রে অভিনয় করবেন তখন আপনার কোন চিন্তা থাকে না। কিন্তু এ ছবিতে স্নায়ু প্রতিবন্ধী (টওরেটো সিনড্রম) চরিত্রে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই কঠিন বিষয়। আমি চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দিতে।

 

প্রশ্ন : ২০০৫ এ ব্ল্যাক ছবিতে প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এটাও কি অনেকটাই এ রকম?
রানী মুখার্জি : আমি ভাগ্যবান যে কামাল হাসান, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খানের মত বড় তারকার সঙ্গে অভিনয় করেছি। আমি এমনভাবে অভিনয় করি যেন দর্শক ছবিতে আমাকে না দেখে ছবির চরিত্রের মধ্যে হারিয়ে যায়। আপনার নিজস্ব স্বকীয়তা না থাকলে আপনি দর্শক হারাবেন। আপনার থেকে ছবির চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা জরুরি।