হলিউডে যৌন নিপীড়ন, স্বরূপ উন্মোচনে পুলিৎজার জয়
বিনোদন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ০৩:৫৮ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৪২ এএম, ২২ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার
হলিউডে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে দুর্দান্ত প্রতিবেদনের জন্য যৌথভাবে মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউইয়র্কার ম্যাগাজিন। সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ খ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে সোমবার।
তাদের প্রতিবেদনেই ধরাশায়ী হন চলচ্চিত্র জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হার্ভি ওয়াইনস্টিন, যার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিনেত্রী যৌন অসাদাচরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। ওয়াইনস্টিন যদিও বলছেন, অভিনেত্রীদের সম্মতিতেই সেসব সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
অত্যন্ত প্রভাবশালী এ প্রযোজকের বিরুদ্ধে তদন্তই পরে বিশ্বজুড়ে ‘#মি টু’ আন্দোলনের সূচনা করে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সোমবার পুলিৎজার প্রশাসক ডানা কেনেডি জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, শোবিজ, প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমে কাজ করা নারীরা যে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্যায় আচরণের শিকার হচ্ছে এ বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার জন্যই নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউইয়র্কারকে চলতি বছর মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোর জন্য জোডি ক্যান্টর ও মেগান টুহের নেতৃত্বাধীন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিনিধি দল এবং নিউইয়র্কার ম্যাগাজিনের কন্ট্রিবিউটর রোনান ফারোকে কৃতিত্ব দেন তিনি।
“তাদের বিস্ফোরক ও দুর্দান্ত সাংবাদিকতা ধনী ও প্রভাবশালী যৌন নিপীড়কদের চরিত্র উন্মোচর করেছে,” বলেছেন ডানা।
হলিউড মুঘল ওয়াইনস্টিনের যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে পৃথকভাবে নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউইয়র্কার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর পথ ধরেই হলিউডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শতাধিক নারী প্রভাবশালী এ প্রযোজকের অন্যায় আচরণ সম্পর্কে মুখ খোলেন।
অভিযোগের জেরে নিজের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি থেকেও বহিস্কৃত হন ৬৬ বছর বয়সী ওয়াইনস্টিন। এ প্রযোজক পরে তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ‘অপরপক্ষের সম্মতি ছাড়া কোনো ধরনের যৌন সম্পর্কে জড়াননি’ বলে দাবি করেছেন।
যৌন হয়রানির বেশ কয়েকটি অভিযোগে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক ও লস এঞ্জেলসে ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে।
তার আচরণ নিয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের অভিযোগের মধ্য দিয়েই সূচনা হয় ‘#মি টু’ আন্দোলনের; জীবদ্দশায় মুখোমুখি হওয়া যৌন হয়রানি বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন বিশ্বের হাজারো নারী।
অনলাইনজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, বিনোদন জগত ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতসমূহে প্রবল ঝাঁকুনি দেয়।
মার্কিন সাংবাদিকতার সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে খ্যাত পুলিৎজার সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতেও দেওয়া হয়।
১৯১৭ সাল থেকে চলে আসা পুলিৎজার পুরস্কারের জন্য এ বছর দুই হাজার চারশ প্রতিবেদন জমা পড়েছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
