মায়ের ভালবাসা তুলনাহীন : শাহীন সামাদ
সালেহীন বাবু
উইমেননিউজ২৪.কম
প্রকাশিত : ১২:০০ পিএম, ১৩ মে ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৯:৩৯ পিএম, ১৫ মে ২০১৮ মঙ্গলবার
তিনি কেবল একজন নজরুল সঙ্গীতের কিংবদন্তী শিল্পীই নন, ৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন কণ্ঠযোদ্ধা। বলছি শাহীন সামাদের কথা, যিনি মুক্তিযুদ্ধে কণ্ঠকে হাতিয়ার বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছিলেন গানে গানে। মা দিবস উপলক্ষে শাহীন সামাদ বলেন, সত্যি কথা বলতে কি, মা’র সাথে তো কোন কিছুরই তুলনা হয় না। মা যতটুকু যত্ন নেয়, মা যতটুকু খেয়াল করে, যতদূর দেখে আমার মনে হয় যে এ মা ছাড়া অন্য কেউ সন্তানের জীবনে এতকিছু করতে পারে না, বাবারও করে কিন্তু মার মত না। যেহেতু মা দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেন। সে জন্য মা যে কি সেটা বলে বোঝাতে পারবো না।
তিনি বলেন, আমার বাবা খুব অল্প বয়সে মারা যায়। আমরা ছিলাম ছয় ভাই বোন। কিন্তু আমার মা আমাদের ছয় ভাইবোনকে আগলে যে ভাবে বড় করেছেন, যে পরিমাণ আত্মত্যাগ উনি করেছেন তা বর্ণনায় শেষ হবে না। কারণ বাবা যখন মারা যায় তখন আমরা অনেক ছোট ছিলাম। আমাদের প্রত্যেককে পড়াশোনা করিয়েছেন, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন, আমাদের বিয়ে দিয়েছেন, যারপরনাই কষ্ট করেছেন, আমাদের সে কষ্টটা কখনোই বুঝতে দেন নি। সেজন্যই বলি মায়ের যে ভালবাসা সে ভালবাসার সাথে অন্য কোন ভালবাসার তুলনা হয়না।
শিল্পী শাহীন সামাদ বলেন, আর আমি মা দিবসে সমস্ত মাদের আমার অন্তর থেকে ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই। এখন তো আমরা বাচ্চাদের নষ্ট করে দিচ্ছি। আমাদের সময় আমরা কিন্তু খুব কড়া নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে বড় হয়ে উঠেছি, আর সেটাও সম্ভব হয়ে উঠেছে মায়ের কারণে। ঠিকমত ঘুমানো, ঠিকমত খাওয়াদাওয়া, ঠিকমত পড়াশোনা, ভোরবেলায় উঠা, স্কুলে সময়মত যাওয়া মানে খুব একটা নিয়মের ভিতর ছিলাম। এখন যেহেতু ডিজিটাল সমাজ ভালবাসার দিকগুলো বাচ্চাদেরও অনুভব করা উচিত। মায়ের দিকে, বাবার দিকে চিন্তা করা উচিত যারা আমাকে বড় করছেন, লালনপালন করছেন তাদেরও কথা সবসময় মেনে চলা উচিত। পাশাপাশি বাচ্চাদের যদি ভালমত গাইডেন্স দেওয়া যায় তাহলে তারা সহজেই সামনে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আর সবচেয়ে বড় সবারই মা আছে। মাদের জন্য অনেক বেশি সম্মান দরকার। আমাদের বর্তমান সময়ে সামাজিক অবক্ষয় অনেক হচ্ছে। যখন অবক্ষয় হয় তখন সবকিছুতেই হয়। আমরা অবশ্যই মায়ের কথা শুনবো, তিনি যেভাবে বলেন সেভাবে চলার চেষ্টা করব। আর এ সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে হবে। অবশ্য সবসময়ের জন্য এ অবক্ষয় থাকবেনা। এক সময় এরও পরিবর্তন আসবে।
সন্তানের ব্যক্তিগত ইচ্ছের বিপরীতে মার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত টিকে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার দুটো মেয়ে, আমি কখনই ওদের ব্যক্তিগত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করিনি যে ওদের সঙ্গীত শিল্পী হতে হবে, নৃত্যশিল্পী হতে হবে। ওদের আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তি স্বাধীনতা দিয়েছি। ওরা যা হতে চেয়েছে তাই হয়েছে। ওরা আমার একদম বন্ধুর মত। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত কোন কিছুই আমার কাছে লুকায় নি।
পরিবারের অনেকেই এখন বাবা মা বয়স হয়ে গেলে বোঝা মনে করে। এ বিষয়ে শাহীন সামাদ বলেন, এখন অনেক ছেলেমেয়ে বাবামাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে যা অত্যন্ত দু:খজনক, অথচ তারা এ চিন্তা করেনা একদিন তারাও বৃদ্ধ হবে। যাই হোক সব শেষে বলতে চাই আজকে আমি, আমরা সবাই মায়ের আদরে, মায়ের আচলে বড় হয়েছি। তাদের তো আমরা অসম্মান করতে পারিনা, পারবোও না। আর চাই কেউ যাতে মাকে কষ্ট না দেয়। কারণ জন্ম থেকে শেষ পর্যন্ত একজন মাই কেবল একজন সন্তানকে নি:স্বার্থভাবে ভালবাসে, ভালবাসতে পারে।
