ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৬, মার্চ ২০২৬ ১:৪৯:০০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের জন্মদিন আজ

সালেহীন বাবু

উইমেননিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:১২ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৪:১১ পিএম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার

আশা ভোঁসলে

আশা ভোঁসলে

বয়স তার কাছে সংখ্যা ছাড়া কিছুই নয়। বোন লতা মুঙ্গেশকরের মত তিনিও হিন্দি গানের জগতের কিংবদন্তি। কন্ঠ দিয়েছেন অসংখ্য বাংলা গানেও। এই ৮৫ বছর বয়সেও চিরতরুণ কন্ঠের অধিকারী প্রখ্যাত শিল্পী আশা ভোঁসলে। আজ তার ৮৫ তম জন্মদিন।
 
 
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। গানের আরেক কিংবদন্তি বোন লতা মুঙ্গেশকরের চেয়ে ৪ বছরের ছোট আশা।
 
 
আশা ভোঁসলে একজন ভারতীয় গায়িকা। মূলত তিনি হিন্দি সিনেমার নেপথ্য সঙ্গীত গাওয়ার জন্য বিখ্যাত। ১৯৪৩ সাল থেকে আরম্ভ করে তিনি ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে গান গেয়ে চলেছেন। তিনি তার সঙ্গীত জীবনে মোট ৯৫০ টিরও বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন। তিনি ১২০০০ এরও বেশি গান গেয়েছেন বলে জানা যায়। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়াল্ড রেকর্ডস তাকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করেন। ভারত সরকার তাকে ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করে। 
 
 
 
বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক এবং সুরকার রাহুল দেব বর্মন ছিলেন তার দ্বিতীয় স্বামী। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। তন্মধ্যে ২য় সন্তান বর্ষা ভোঁসলে ৮ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়। 


তার গায়িকা জীবনকে খতিয়ে দেখলে চারটি সিনেমাকে চিহ্নিত করা যায় যা তার ক্যারিয়ারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। এ ছবিগুলো হলো: নয়া দৌড় ১৯৫৭ সালে, তিসরি মঞ্জিল ১৯৬৬ সালে উমরাও জান ১৯৮১ সালে এবং রঙ্গীলা ১৯৯৫। 


আশা ভোঁসলে বাংলা সিনেমার জন্য বহু ছবিতে নেপথ্য সঙ্গীত গেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলা আধুনিক গান এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতও গেয়েছেন অনেক। জনপ্রিয় এসব গান গেয়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরুষ্কার। 
 
 
১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আশা ভোঁসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০১ সালে তিনি ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পান। 
 
 
সঙ্গীতজীবনে দীর্ঘ ৫ দশক সেরা শিল্পীর দৌড়ে ছিলেন তারা দুই বোন। ১৯৫৭ সালে নয়া দৌড়, আশা, নবরঙ্গ, মাদার ইন্ডিয়া, দিল দেকে দেখো, পেয়িং গেস্ট প্রমুখ চলচ্চিত্রে একেরপর এক হিট গান গেয়ে লতাকে হটিয়ে রাতারাতি বলিউডের শীর্ষস্থান পেয়ে যান আশা। ১৯৫৮ সালে হাওড়া ব্রিজ, কাগজ কে ফুল, ফাগুন প্রমুখ ছবির মাধ্যমে জয়যাত্রা অব্যাহত রাখেন। 
 
 
তবে বেশিদিন শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ১৯৫৯ সালেই আগের ছন্দ ফিরে পান লতা। তবে, ১৯৭০-এর দশকে লতাকে একেবারে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর দেন আশা। কারণ, লক্ষ্মীকান্ত পেয়ারেলাল যেমন লতাকে সব ছবিতেই প্রাধান্য দিতেন তেমনি আর ডি বর্মন আর কল্যানজি আনন্দজী প্রাধান্য দিতেন আশাকে। এছাড়া লতা যেমন হেমা মালিনী, রাখী, মমতাজ, মৌসুমী চ্যাটার্জির জন্য চিরস্থায়ী কন্ঠ ছিলেন তেমনি আশার কন্ঠ আরোপ করা হত জীনাত আমান, পারভীন ববি, রেখা ও শর্মিলা ঠাকুরের প্রতিটি ছবিতে। 
 
 
তার জন্মদিন ঘিরে ভক্তরা উৎসবে মাতলেও আশা এই দিনটি নিজের মত করেই কাটান। জনপ্রিয় এ গুণী শিল্পীর জন্মদিনে উইমেননিউজের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ জন্মদিন।