ফরাসি কিংবদন্তি অভিনেত্রী ব্রিজিত বারদো মারা গেছেন
বিনোদন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪১ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সোমবার
ফরাসি কিংবদন্তি অভিনেত্রী ব্রিজিত বারদো
ফরাসি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ব্রিজিত বারদোমারা গেছেন। তিনি ৯১ বছর বয়সে মারা গেলেন। পঞ্চাশের দশকে ফরাসি সিনেমায় নতুন ধারা তৈরি করে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন এবং নারীর স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, রোববার তার ফাউন্ডেশন বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছেড়ে প্রাণী অধিকার রক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করা এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারদোকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গেছে। তিনি অক্টোবর মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং নভেম্বর মাসে নিজের মৃত্যুর গুজব অস্বীকার করে একটি বিবৃতি দেন। তবে তিনি কখন বা কোথায় মারা গেছেন, সে বিষয়ে ফাউন্ডেশন কিছু জানায়নি।
এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ব্রিজিত বারদো ফাউন্ডেশন গভীর দুঃখের সঙ্গে এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী ও গায়িকা মাদাম ব্রিজিত বারদোর মৃত্যুসংবাদ জানাচ্ছে। তিনি তাঁর মর্যাদাপূর্ণ ক্যারিয়ার পরিত্যাগ করে প্রাণীকল্যাণ ও নিজের ফাউন্ডেশনের জন্য জীবন ও শক্তি উৎসর্গ করার পথ বেছে নিয়েছিলেন।’
১৯৫৬ সালে ‘অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বারদো বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। এরপর তিনি আরও প্রায় ৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, তারপর অভিনয়জগৎ থেকে সরে দাঁড়ান।
চলচ্চিত্র থেকে অবসর নিয়ে তিনি রিভিয়েরা উপকূলের সাঁ-ত্রোপে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং প্রাণী অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নিজেকে নিবেদিত করেন।
তার এই আহ্বান বা জীবনপথের মোড় ঘোরানো ঘটনা ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়, যখন শেষ চলচ্চিত্র ‘দ্য এডিফাইং অ্যান্ড জয়াস স্টোরি অব কোলিনোত’-এর শুটিং সেটে তিনি একটি ছাগলের মুখোমুখি হন।
ছাগলটিকে হত্যা থেকে বাঁচাতে তিনি সেটি কিনে নেন এবং নিজের হোটেল কক্ষে রেখে দেন।
নিজ দেশে ‘বিবি’ নামে পরিচিত ব্রিজিত বারদো প্রায় ৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৫৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান’ সিনেমায় তার অভিনয় তাকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করে। তবে ১৯৭৩ সালে, মাত্র ৩৯ বছর বয়সে, তিনি অভিনয় জীবন থেকে অবসর নিয়ে পশু কল্যাণে নিজেকে পুরোপুরি নিবেদিত করেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্রান্স এক শতাব্দীর এক কিংবদন্তিকে হারাল।’ ব্রিজিত বারদো ফাউন্ডেশনও গভীর দুঃখের সঙ্গে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং তাকে বিশ্ববিখ্যাত অভিনেত্রী ও পশুপ্রেমী হিসেবে স্মরণ করেছে।
১৯৩৪ সালে প্যারিসে জন্ম নেওয়া ব্রিজিত বারদোর পরিবার চেয়েছিল তিনি ব্যালে নৃত্যশিল্পী হোন। কিশোর বয়সে একটি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছবি প্রকাশের পরই তার অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু হয়। রজার ভাদিম পরিচালিত ‘অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান’ সিনেমায় তার অভিনয় তৎকালীন সমাজে আলোড়ন তোলে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নিষিদ্ধ হলেও ফরাসি দার্শনিক সিমোন দ্য বোভোয়া তাকে ‘পরম স্বাধীনতার প্রতীক’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এরপর ‘দ্য ট্রুথ’, ‘কনটেম্পট’, ‘ভিভা মারিয়া’সহ একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন আইকন হিসেবেও তিনি আলোচিত ছিলেন। তার পোশাক ও সাজসজ্জা একসময় বিশ্বব্যাপী নতুন ট্রেন্ড তৈরি করে।
ব্যক্তিজীবনে তিনি চারবার বিয়ে করেন এবং এক পুত্র সন্তানের মা হন। তবে পরবর্তী জীবনে ইসলাম, সমকামী সম্প্রদায় ও অভিবাসন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগে তাকে একাধিকবার জরিমানাও করা হয়।
তবুও পশু কল্যাণে তার অবদান ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ১৯৮৬ সালে তিনি ব্রিজিত বারদো ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীর সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
