লাঞ্চ, সুস্থ থাকার ছোট কিন্তু কার্যকর টিপস
জয়া জয়িতা
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:৪৩ পিএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবন, অফিসের চাপ, দীর্ঘ মিটিং—সব মিলিয়ে আমাদের লাঞ্চ ব্রেক প্রায়ই স্রেফ সময় পার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আসলে লাঞ্চ শুধু ক্ষুধা মেটানোর মাধ্যম নয়; এটি আমাদের শরীর ও মনকে রিফ্রেশ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সঠিক খাবার ও ছোট অভ্যাসগুলো আপনাকে সারাদিনের জন্য সতেজ, ফোকাসড এবং এনার্জিতে ভরপুর রাখতে পারে।
খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখুন:
লাঞ্চে যদি শুধু কার্ব বা ফাস্ট ফুড খান, দুপুরের পর ক্লান্তি বাড়বে। বরং চেষ্টা করুন এক প্লেটে প্রোটিন, কার্ব, ফাইবার এবং কিছু ভিটামিন রাখার। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাউন রাইস বা রুটি, ডাল বা চিকেন/ডিম, সঙ্গে সালাদ বা সবজি। এতে হজম সহজ হবে, পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকবে এবং বিকেলের কাজে মনোযোগ বাড়বে।
হাইড্রেশন—ভুলে যাবেন না:
অনেকেই শুধু খাবারের দিকে মনোযোগ দেন, পানীয়ের দিকে নয়। কিন্তু দুপুরের খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি বা হালকা জুস খাওয়া জরুরি। এটি শুধু দেহকে হাইড্রেটেড রাখে না, ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক হয়। কফি বেশি খেলে দুপুরের এনার্জি হঠাৎ কমে যেতে পারে—সেটি মনে রাখুন।
ছোট ছোট খাবার, বড় প্রভাব:
যদি লাঞ্চ দেরিতে হয় বা বেশি খাওয়া হয়ে যায়, সারাদিন ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই চেষ্টা করুন মাঝারি পরিমাণে খাবার খেতে। খুব বেশি খাওয়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে রক্তের সুগার লেভেল ওঠানামা করবে এবং কাজের মধ্যে মনোযোগ কমবে।
হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং:
লাঞ্চের পরে মাত্র ৫–১০ মিনিট হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং করতে পারেন। এটি শুধু হজমে সহায়ক নয়, রক্তপ্রবাহও বাড়ায়, মনকে সতেজ রাখে এবং শরীরের ছোট ক্লান্তি দূর করে। অফিসে লিফট বা ডেক্সের পাশে একটু হাঁটতে পারেন—ছোট অভ্যাস হলেও বড় প্রভাব ফেলে।
মাইন্ডফুল ইটিং:
খাবারের সময় ফোন বা ল্যাপটপ থেকে একটু দূরে থাকুন। সচেতনভাবে খাবার খাওয়া, ধীরে চিবিয়ে খাওয়া—এটি হজম সহজ করে, অতিরিক্ত খাওয়া রোধ করে এবং মানসিকভাবে মনকে শান্ত রাখে। এক কাপ চা বা হালকা ড্রিঙ্কের সঙ্গে ধীরে ধীরে খাবার খেলে দুপুরের অবসাদ কমে যায়।
ছোট খাবারের স্বাস্থ্য-বোনাস:
লাঞ্চে যদি কিছু ছোট স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস যোগ করা যায়, যেমন কলা, বাদাম, বা দই—এটি বিকেলের এনার্জি বজায় রাখে এবং হঠাৎ ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। এছাড়া, প্রাকৃতিক খাবার খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং মন ভাল থাকে।
শেষ কথা:
লাঞ্চ শুধু ক্ষুধা মেটানোর সময় নয়, বরং এটি দিনের শক্তি ও মনোবল বাড়ানোর একটি সুযোগ। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি, হালকা হাঁটা এবং মাইন্ডফুল ইটিং—এই ছোট অভ্যাসগুলো যোগ করলে সারাদিন সতেজ, ফোকাসড এবং শক্তিশালী থাকা সম্ভব। তাই আজই লাঞ্চকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখুন। ক্ষুধা মেটান, কিন্তু শরীর ও মনকেও দিন পূর্ণ খেয়াল।
একটি ভালো লাঞ্চ—ছোট, স্বাস্থ্যকর এবং সচেতন—শুধু আজকের দুপুরকে নয়, পুরো দিনের জন্য শক্তি ও সতেজতার উৎস হয়ে দাঁড়াতে পারে।
