চীনে নবদম্পতিদের বিয়েতে রসুন উপহারের প্রথা
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০৫ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
বিশ্বজুড়ে খাবারের স্বাদ বাড়াতে রসুনের জনপ্রিয়তা যেমন রয়েছে, তেমনি এটি অনেক দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। চীনের দক্ষিণে গুয়াংডং প্রদেশে দীর্ঘদিনের একটি বিশেষ প্রথা হলো বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে বরপক্ষকে রসুন উপহার দেওয়া। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, রসুন অশুভ শক্তি দূর করে এবং ঘরে ইতিবাচক শক্তি বজায় রাখে।
চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রসুন উৎপাদক দেশ। দেশটির প্রায় সব অঞ্চলে রসুন ব্যবহার করা হয়, তা রান্নায় হোক বা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাশাস্ত্রে। ঐতিহ্য অনুযায়ী, রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়।
গুয়াংডং প্রদেশের গ্রামীণ হাক্কা অঞ্চলে বিয়ের দিনে কনের পরিবার রসুনসহ অন্যান্য রান্নার উপকরণ সুন্দরভাবে সাজিয়ে লাল ফিতায় বেঁধে বরপক্ষের বাড়িতে পাঠায়। এই উপহার নবদম্পতির ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ ও আশীর্বাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বরপক্ষের বাড়িতে পৌঁছানো উপহারের মধ্যে রসুনের পাশাপাশি ধনেপাতা এবং পেঁয়াজের কলিও থাকে। চীনের বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনেপাতা কনেকে নতুন সংসারে পরিশ্রমী করে তোলে, পেঁয়াজের কলি সুস্থ সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, আর রসুন সংসারের খরচ-খরচায় কনেকে পটু করে।
দক্ষিণ চীনে মানুষ ঘরের ভেতর রসুন ঝুলিয়ে রাখেন এবং অনেক সময় শরীরেও বেঁধে রাখেন। এভাবে তারা অশুভ শক্তি দূর করার পাশাপাশি ফসলের ভালো উৎপাদনের আশা করেন। এই প্রথার পেছনে একটি প্রাচীন বিশ্বাস রয়েছে যে, স্যাঁতসেঁতে জলবায়ুতে রোগবালাই বেশি হয় এবং খাবার দ্রুত নষ্ট হয়, যা অশুভ আত্মার কারণে ঘটে।
দক্ষিণ চীনের ঋতুভেদে রসুন ব্যবহারেরও আলাদা নিয়ম রয়েছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ছত্রাক ও আর্দ্রতা মোকাবিলায়, শরৎকালে অশুভ শক্তি দূর করতে, এবং শীতকালে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে রসুন ব্যবহার করা হয়।
মজার একটি প্রথা হলো, দক্ষিণ চীনের মানুষ রসুন ঘরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে মুখ করে রাখেন। তাঁদের বিশ্বাস, এভাবে রাখলে ঘরে ইতিবাচক শক্তির ভারসাম্য সবচেয়ে ভালোভাবে বজায় থাকে।
চীনের এই রীতিনীতির মাধ্যমে দেখা যায়, খাদ্য উপাদানও কেবল রান্নার নয়, বরং সংস্কৃতি, বিশ্বাস এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। রসুন বিয়ের উপহার হিসেবে কেবল সুস্বাদু নয়, এটি নবদম্পতির জন্য সৌভাগ্য ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
