একুশে বইমেলা শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:৪১ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
প্রতীকী ছবি।
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বেলা দুইটায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী এই বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করবেন।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
সাধারণত প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হলেও এ বছর জাতীয় নির্বাচনের কারণে দেরিতে আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে করোনা মহামারির কারণে ২০২১ ও ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি।
পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রথমে মেলায় অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন প্রকাশকেরা। পরে স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফসহ তিনটি দাবি মেনে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো বইমেলায় অংশ নিচ্ছে।
প্রকাশক ও স্টলের সংখ্যা
এবারের অমর একুশে বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা সংস্থা তাদের স্টল স্থাপন করেছে। মোট ইউনিট রয়েছে ১ হাজার ১৮টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের আশপাশে গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব ‘জিরো ওয়েস্ট’ বইমেলা
এবারের বইমেলাকে পরিবেশ-সুরক্ষা সচেতন ও ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজকরা। সে অনুযায়ী মেলা প্রাঙ্গণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখা হবে।
অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন বলেন, ‘বইমেলা শেষ পর্যন্ত শুরু হচ্ছে, আমরা সবাই মিলে করতে পারছি—এটাই বড় কথা। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পাঠক এসে বইমেলাকে সফল করবেন বলে আশা করি।’ আর্থিক ক্ষতির শঙ্কার মধ্যেও তিনি বলেন, ‘বইমেলা বন্ধ না করে চালু রাখতে পারাটাকেই আমরা এক ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছি।’
শিশুপ্রহর ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
বইমেলার শিশুচত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট থাকছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’।
প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাও থাকছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আলাদা আয়োজন রাখা হয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
