১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প, কিসের সংকেত?
অনু সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:১৪ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
প্রতীকী ছবি।
১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রথম কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার মাটি কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে এ ধরনের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক কম্পন হওয়াকে বিজ্ঞানীরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার ভূমিকম্প হওয়া মূলত টেকটোনিক প্লেটের ভেতরে জমে থাকা শক্তি ধীরে ধীরে নিঃসৃত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। একে অনেক সময় ‘আফটারশক’ বা পরবর্তী কম্পন বলা হয়। তবে প্রতিটি পরবর্তী কম্পনই যে ছোট হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
কেন বারবার ভূমিকম্প হচ্ছে?: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে থাকা প্লেটগুলোর মধ্যে চাপ দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকে। যখন সেই চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়, তখন ভূমিকম্প ঘটে। একটি বড় কম্পনের পর আশপাশের দুর্বল ফল্টলাইনে নতুন করে চাপ পড়ে। এর ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আবার কম্পন অনুভূত হতে পারে।
তাদের মতে,
একটি কম্পন অন্য ফল্টলাইনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে
এতে আশপাশের এলাকায় নতুন করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হয়
সময়ের ব্যবধানে এই কম্পন কমে আসার কথা, তবে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়
বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি?: ভূমিকম্প গবেষকরা বলছেন, পরপর কম্পন মানেই বড় ভূমিকম্প আসবে—এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে এটি একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা যায়। কারণ, এটি প্রমাণ করে যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ প্লেটগুলো সক্রিয় অবস্থায় আছে।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস এখনো বিজ্ঞানসম্মতভাবে নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই একাধিক কম্পনকে সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রস্তুতির বিকল্প নেই: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত ভূমিকম্প আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বিশেষ করে—
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা হালনাগাদ
জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা
স্কুল-কলেজ ও অফিসে মহড়া জোরদার করা
সাধারণ মানুষকে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা
এসব উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।
সতর্কবার্তা: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ভূমিকম্প হওয়া প্রকৃতির একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। এটি জানিয়ে দিচ্ছে—ভূগর্ভস্থ শক্তির চলাচল এখনো থেমে নেই। ফলে আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও প্রস্তুতিই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
