ঢাকা, শনিবার ২৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬:৩১:৪৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ইফতারে কলা খাওয়ার উপকারিতা জানলে অবাক হবেন

রিনা আমিন

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৪২ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও শর্করার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ইফতারে কলা রাখলে এসব সমস্যার অনেকটাই কমানো সম্ভব। সহজলভ্য এই ফলটি পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং দ্রুত শক্তি জোগাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

দ্রুত শক্তি জোগায়

কলা প্রাকৃতিক শর্করার ভালো উৎস। এতে থাকা গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ ইফতারের পর শরীরে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। সারাদিন রোজা রাখার পর হঠাৎ দুর্বল লাগলে একটি কলাই অনেক সময় তা সামাল দিতে পারে।

হজমে সহায়তা করে

কলা সহজপাচ্য ফল। এতে থাকা খাদ্যআঁশ (ফাইবার) হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। রোজার সময় অনেকেরই হজমের সমস্যা দেখা দেয়, কলা সে ক্ষেত্রে উপকারী।

পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে

কলা পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ফল। পটাশিয়াম শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং রোজায় ঘামের মাধ্যমে যে লবণ ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যায়, তা পূরণে ভূমিকা রাখে।

বুকজ্বালা ও অম্বল কমায়

রোজার পর হঠাৎ ভাজাপোড়া বা ঝাল খাবার খেলে অনেকের বুকজ্বালা বা অম্বল হয়। কলা প্রাকৃতিকভাবে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই ইফতারের শুরুতে কলা খেলে পাকস্থলী তুলনামূলক আরাম পায়।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী

কলায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, যা হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। নিয়মিত পরিমিত কলা খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক

কলায় আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলক ভালো। এটি শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে এবং রোজার সময় দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা কমাতে সাহায্য করে।

মানসিক প্রশান্তি দেয়

কলায় থাকা ভিটামিন বি-৬ মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। রোজার ক্লান্তি ও বিরক্তিভাব কমাতে এটি উপকারী।

কতটুকু কলা খাবেন

ইফতারে ১টি মাঝারি আকারের কলাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত কলা খেলে গ্যাস, পেট ভারী লাগা বা রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

যাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন

ডায়াবেটিস রোগীরা কলা খাওয়ার আগে পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। কিডনি রোগীদেরও পটাশিয়াম বেশি থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইফতারে কলা রাখা হলে তা শরীরের শক্তি ফেরাতে, হজম ঠিক রাখতে ও পানিশূন্যতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সহজলভ্য ও পুষ্টিকর এই ফলটি সঠিক পরিমাণে খেলে রোজার সময় শরীর সুস্থ রাখায় সহায়ক হতে পারে।