ঢাকা, রবিবার ০১, মার্চ ২০২৬ ৪:১০:০৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অভিনয়েই নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই: তানজিন তিশা

জোসেফ সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২১ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল তানজিন তিশা।

এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল তানজিন তিশা।

এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল তানজিন তিশা। রোজার ঈদ সামনে রেখে তার অভিনীত একাধিক নতুন নাটক মুক্তির অপেক্ষায়। ঈদের ব্যস্ততা, অভিনয়জীবন, ব্যক্তিগত ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে তার সঙ্গে কথোপকথন তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য। এই গুণী শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জোসেফ সরকার।

প্রশ্ন: ঈদ সামনে। এবারের ঈদে আপনার কাজ নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?

তানজিন তিশা: এবার ঈদে বেশ কয়েকটি নতুন নাটক আসছে, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। শুটিং শেষ করেছি আগেই, এখন প্রচারের ব্যস্ততা। ঈদ মানেই দর্শকের জন্য বিশেষ কিছু—এই ভাবনাটা মাথায় রেখে কাজ করেছি।

প্রশ্ন: ঈদের নাটকে আপনাকে কোন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে?

তানজিন তিশা: এবারের নাটকগুলোতে রোমান্টিক চরিত্র যেমন আছে, তেমনি একটু সিরিয়াস ও আবেগী চরিত্রও আছে। আমি চেষ্টা করি এক ধরনের চরিত্রে আটকে না থাকতে। দর্শক যেন প্রতিবার আমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারেন, সেটাই চাই।

প্রশ্ন: এত নাটকের ভিড়ে নিজের কাজকে আলাদা করতে কী করেন?

তানজিন তিশা: স্ক্রিপ্ট বাছাইয়ে আমি খুব গুরুত্ব দিই। গল্প যদি ভালো না লাগে, চরিত্রে চ্যালেঞ্জ না থাকে, তাহলে কাজ করি না। শুধু ঈদের জন্য কাজ নয়, দর্শক যেন নাটকটা মনে রাখেন—এই জায়গাটা মাথায় রাখি।

প্রশ্ন: অভিনয়ের পাশাপাশি আপনি মডেল হিসেবেও জনপ্রিয়। এই দুই পরিচয় কীভাবে সামলান?

তানজিন তিশা: আসলে দুটোই আমার ভালোবাসার জায়গা। মডেলিং আমাকে ক্যামেরার সামনে স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছে, আর অভিনয় আমাকে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছে। দুটো মিলিয়েই আমি আজকের আমি।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টা কেমন ছিল?

তানজিন তিশা: শুরুর সময়টা সহজ ছিল না। অডিশন, অপেক্ষা, প্রত্যাখ্যান—সবই ছিল। তবে আমি বিশ্বাস করতাম, চেষ্টা করলে জায়গা তৈরি করা যায়। ধৈর্য ধরেছি, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি।

প্রশ্ন: অভিনয়জীবনের কোন সময়টা সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে?

তানজিন তিশা: যখন কাজ কম ছিল, তখন মানসিক চাপ বেশি ছিল। ভাবতাম, দর্শক কি আমাকে ভুলে যাবে? কিন্তু ওই সময়টাই আমাকে আরও সিরিয়াস করেছে। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মন দিয়েছি।

প্রশ্ন: ঈদ মানে তো ব্যক্তিগত জীবনেও আলাদা অনুভূতি। আপনার কাছে ঈদের মানে কী?

তানজিন তিশা: ঈদ মানে পরিবার, কাছের মানুষ, আর একটু শান্ত সময়। কাজের ব্যস্ততায় পরিবারকে সময় দেওয়া হয় না। ঈদে চেষ্টা করি মা–বাবার সঙ্গে সময় কাটাতে।

প্রশ্ন: দর্শকদের কাছ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?

তানজিন তিশা: যখন কেউ বলে, ‘আপনার চরিত্রটা আমার নিজের জীবনের মতো লেগেছে’—এই কথাটা আমাকে খুব ছুঁয়ে যায়। তখন মনে হয় অভিনয়টা কাজে লেগেছে।

প্রশ্ন: একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি কী মনে করেন?

তানজিন তিশা: আমি মনে করি, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো পরিশ্রম আর নিজের ওপর বিশ্বাস। কোনো চরিত্র করলে সেটাকে বোঝার চেষ্টা করি—সে কী চায়, কীভাবে কথা বলে, কীভাবে ভাবে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

তানজিন তিশা: আমি চাই, আরও ভালো গল্পে কাজ করতে। শুধু জনপ্রিয় নয়, একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হতে চাই। এমন কাজ করতে চাই, যেগুলো মানুষ মনে রাখবে।

প্রশ্ন: নতুন যারা অভিনয়ে আসতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

তানজিন তিশা: ধৈর্য ধরতে হবে। রাতারাতি কিছু হয় না। নিজেকে তৈরি করতে হবে—অভিনয় শিখতে হবে, নিজের দুর্বলতা বুঝতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, হাল ছাড়া যাবে না।

প্রশ্ন: এবারের ঈদে দর্শকদের জন্য আপনার বিশেষ বার্তা?

তানজিন তিশা: আমার নাটকগুলো দেখে যদি দর্শক একটু হাসেন, একটু কাঁদেন বা কিছু সময় ভালো কাটান—সেটাই আমার সার্থকতা। সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক।