শুটিংয়ে মারধরের অভিযোগ: যা বললেন তানজিন তিশা
বিনোদন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৪৫ এএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিংকে ঘিরে ছোট পর্দার দুই অভিনেত্রীকে নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘পুতুলের বিয়ে’ নামের একটি নাটকের দৃশ্যে চড় মারাকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ অভিযোগ করেছেন, সহশিল্পী তানজিন তিশা ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে আঘাত করেছেন। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তানজিন তিশা।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে সামিয়া অথৈ দাবি করেন, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে তিশাকে চড় মারতে বলা হয়েছিল। গল্প অনুযায়ী তিশার চরিত্রটি মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি খুব হালকাভাবে চড় মারেন। কিন্তু দৃশ্যের পর তিশা তাকে পাল্টা চড় মারেন এবং সবার সামনে একাধিকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার গাল ও চোখ ফুলে গেছে বলেও দাবি করেন সামিয়া। একই সঙ্গে বিষয়টির বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ নাকচ করে তানজিন তিশা বলেন, তিনি পুরোপুরি চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিনয় করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি এতক্ষণ শুটিং চালিয়ে গেছি, কারণ আমি চাইনি কাজটা বন্ধ হয়ে যাক। যে লাইভ করেছে, সে কাজটা ফাঁসিয়েই চলে গেছে।’
তিশা জানান, নাটকে তিনি একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা অটিস্টিক চরিত্রে অভিনয় করছেন। সেই চরিত্রের আচরণ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘চরিত্রের প্রয়োজনে এমন চরিত্র মানুষকে মারতে পারে, কামড় দিতে পারে, এমনকি অস্বাভাবিক আচরণও করতে পারে। আমি আমার চরিত্রের ভেতরে থেকেই কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, নাটকটি মুক্তি পেলে দর্শকরাই পুরো বিষয়টি বুঝতে পারবেন। ‘১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে নাটকটি মুক্তি পাবে। তখন সবাই দেখতে পারবেন, আসলে কোন দৃশ্য কেন করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
অভিযোগের প্রসঙ্গে তিশা বলেন, বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহশিল্পীকে আক্রমণ করেছেন। তার দাবি, এখানে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই; পুরো ঘটনাই চরিত্রের প্রয়োজন থেকে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী যতটুকু দরকার ছিল, আমি ততটুকুই করেছি। কখনো কখনো অভিনয়ের সময় ইম্প্রোভাইজেশন হয়, কিন্তু সেটাও চরিত্রের মধ্যেই থেকে করতে হয়।’
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, চরিত্রটির জন্য তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ‘এই চরিত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার সুযোগ নেই। সারাদিন গোবরের পাশে বসে থাকতে হয়েছে, নদীর পানিতে থাকতে হয়েছে, মাটি-বালুর মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। এমনকি শিকল দিয়ে বেঁধেও দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
এ সময় সহশিল্পীর কিছু মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বলেও উল্লেখ করেন তিশা। তার ভাষায়, ‘একজন অভিনেত্রীর বোঝা উচিত, একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে একজন শিল্পীকে কত ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’
তানজিন তিশা আরও বলেন, ‘আমরা এই কাজটার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। নাটকটি যখন দর্শকের সামনে আসবে, তখন পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।’
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নাটকটি মুক্তি পাওয়ার পরই দর্শকরা পুরো ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
