সহশিল্পীকে চড়, তানজিন তিশাকে ঘিরে সমালোচনা
বিনোদন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:১৭ এএম, ৭ মার্চ ২০২৬ শনিবার
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা–র বিরুদ্ধে শুটিং সেটে সহশিল্পীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তরুণ অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ অভিযোগ করেছেন, একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তিশা তাকে সবার সামনে চড় ও খামচি দেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টেলিভিশন অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ যেভাবে সামনে আসে
জানা গেছে, পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকুর একটি ঈদ নাটকের শুটিং চলছিল মানিকগঞ্জে। সেখানে একটি দৃশ্যে অথৈকে তিশাকে চড় মারার নির্দেশনা ছিল। অথৈ দাবি করেন, তিনি নির্দেশনা অনুযায়ী খুব হালকাভাবে চড় মারেন। কিন্তু এরপর তিশা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বারবার আঘাত করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অথৈ বলেন, “আমি আলতো করে চড় মেরেছিলাম। কিন্তু তিশা আপু আমাকে একের পর এক চড় মারেন। আমার চোখ-মুখ ফুলে যায়।” তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
অথৈ আরও অভিযোগ করেন, আঘাতের সময় সেটে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি দেখেছেন। এতে তিনি অপমানিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তিশার ব্যাখ্যা
অভিযোগের বিষয়ে অভিনেত্রী তানজিন তিশা বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং তিনি চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনয় করেছেন। তার দাবি, তিনি একটি মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন চরিত্রে অভিনয় করছিলেন এবং সেই চরিত্র অনুযায়ী আচরণ করেছেন।
তিশার ভাষ্য, “আমি পুরো সময় চরিত্রের মধ্যে ছিলাম। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আঘাত করার কিছু নেই। হয়তো বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।”
অভিনয় সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি সামনে আসার পর নাট্যাঙ্গনের বিভিন্ন শিল্পী ও সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকেই বলেন, শুটিং সেটে শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু শিল্পীর মতে,
নাটকের দৃশ্যের প্রয়োজনে মারধরের দৃশ্য থাকলেও সেটি সাধারণত “ফেক” বা নিয়ন্ত্রিতভাবে করা হয়।
সিনিয়র শিল্পীদের উচিত জুনিয়রদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা।
কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে সেটেই তা সমাধান করা উচিত।
শোবিজ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নির্মাতা বলেন, শুটিংয়ে শারীরিক দৃশ্যের ক্ষেত্রে পরিচালক ও সহকারী পরিচালকদের তদারকি আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
শোবিজ অঙ্গনে আলোড়ন
এই ঘটনার পর টেলিভিশন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় ঘটনাটি আরও বড় আকার নিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে “ভুল বোঝাবুঝি” বললেও অন্যরা এটিকে পেশাদার আচরণের ঘাটতি হিসেবে দেখছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট শিল্পী সংগঠনগুলো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। তারা বলছে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শুটিং সেটে সহশিল্পীর সঙ্গে এমন ঘটনা নতুন নয়, তবে তা প্রকাশ্যে এলে পুরো শিল্পাঙ্গনের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই অনেকেই মনে করছেন, এই বিতর্কের মাধ্যমে নাট্যাঙ্গনে পেশাদার আচরণ ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়া দরকার।
