পাহাড়ের নারীরা জানে না নারী দিবসের কথা
ট্রেশো জফি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:১২ এএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কথা খুব কম নারীই জানেন। শহরের মতো আলোচনা, সভা বা র্যালি এই এলাকায় নেই। এখানে প্রতিটি দিনই নারীর জন্য সংগ্রামের দিন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই নারীরা প্রতিদিনই জীবিকার লড়াই চালাচ্ছেন।
সকাল থেকে রাত, সংগ্রামের জীবন
বান্দরবানের লংগদু উপজেলায় গৃহকর্মী শিরিনা মং (৩৫) বলেন, “নারী দিবসের কথা? আমরা তো শুধু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খেতে পারি কীভাবে তা নিয়েই ভাবি। অন্য কোনো দিন-দিনের ব্যাপার আমাদের জীবনে আসে না।”
শিরিনার মতোই খাগড়াছড়ির মিলে আক্তার (৪২) বলেন, “আমাদের স্কুলে যাওয়া-আসার রাস্তা নেই। পড়াশোনার সুযোগও নেই। যদি নারী দিবস পালন হয়, আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু সংসার ও কাজ নিয়ে ব্যস্ত।”
বাজার, ক্ষুদ্র দোকান ও কৃষিক্ষেত্রেও কর্মজীবী
কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলে ক্ষুদ্র চা-বাগান ও দোকানপাট চালানো ফাতিমা চাকমা (৩০) বলেন, “আমরা জানি না নারী দিবস কি। তবে চাই ছেলে-মেয়ের মধ্যে সমান অধিকার হোক। আমাদের কাজের মর্যাদা থাকুক।”
পাহাড়ের ছোট চা-বাগানে শ্রমিক সেলিনা রানা (৩৫) যোগ করেন, “দিবসের নাম শুনলেও আমাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে না। দিনের শেষে বাড়িতে ফেরার সময় হাত-খালি হয়ে যায়।”
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, পাহাড়ের নারীরা স্বাস্থ্যসেবা, স্কুলে যাওয়া, নিরাপদ পানি ও বাজার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাল্যবিয়ে, মাতৃমৃত্যু ও সামাজিক বৈষম্য এখানে এখনও রয়ে গেছে।
একজন শিক্ষক বলেন, “নারী দিবসের গুরুত্ব শহরে অনেকেই বোঝে। কিন্তু আমাদের পাহাড়ি এলাকার নারীরা তাদের অধিকার ও মর্যাদা জানে না। দিবসটি তাদের কাছে অচেনা।”
মানবিক বার্তা
পাহাড়ের নারীদের জন্য নারী দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য হল তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনা—নিরাপদ জীবন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকার সমতা নিশ্চিত করা। শুধু র্যালি বা আলোচনাই নয়, তাদের দৈনন্দিন সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
ফাতিমা চাকমা বলেন, “আমরা চাই কেউ আমাদের কথা শোনুক, দেখুক। নারী দিবস মানে শুধু শহরের মানুষদের জন্য নয়—আমাদের জন্যও। আমরা চাই মর্যাদা, সুযোগ ও নিরাপত্তা।”
শিরিনা মং যোগ করেন, “দিন শেষ হলে আমাদের জন্যও সমান অধিকার হোক। যদি সত্যি নারী দিবস মানে সমতা, তাহলে আমাদের জীবনেও তার প্রভাব দেখা উচিত।”
এইভাবে, পাহাড়ি নারীদের জীবন-সংগ্রামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি মিলিত হয়নি। তাদের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দিবসটির প্রকৃত অর্থ পৌঁছাবে না।
