ঘরে বানানো ইফতার: স্বাদে ভরপুর, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী
লাইফস্টাইল ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৬ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার
ঘরে বানানো ইফতার: স্বাদে ভরপুর, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী
রমজান মানেই ইফতারের আয়োজন। বাজারের রকমারি ইফতারের সঙ্গে সঙ্গে, ঘরে তৈরি ইফতারের চাহিদাও এবার চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতন পরিবারগুলো বাজারের ভাজাভুজি ও রাসায়নিক মশলাহীন খাবারের প্রতি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ঘরে তৈরি ইফতার স্বাদে, পুষ্টিতে এবং বাজেটে অনেক বেশি সুবিধা দেয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক পরিবার সকাল থেকেই ইফতার তৈরি করতে ব্যস্ত। পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ডিম চপ, সিঙ্গারা, সমুচা, ফালুদা, কুলফি ও শরবত—সবই ঘরে তৈরি করে সাজানো হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য স্বাস্থ্যকর উপকরণ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ঘরে তৈরি ইফতারের জনপ্রিয়তা
সম্প্রতি একজন খাদ্য প্রস্তুতকারক ও ব্লগার, আফসানা হক বলেন, “আজকাল পরিবারের অনেকেই বাজারের ভাজাভুজি থেকে বিরত থাকছেন। ঘরে তৈরি ইফতার স্বাস্থ্যকর, কম তেলযুক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশলাযুক্ত করা যায়। এতে পরিবারের সবাই নিরাপদে ইফতার করতে পারে।”
এছাড়া, ঘরে তৈরি ইফতার ক্রেতার বাজেটের জন্যও সাশ্রয়ী। এক ক্রেতা, রাশিদুল ইসলাম জানান, “বাজার থেকে ইফতার কিনলে অনেক ব্যয় হয়। কিন্তু ঘরে বানালে কম খরচে আরও বেশি আইটেম তৈরি করা যায়।”
ঘরে বানানো ইফতারের রকমারি পসরা
ভাজাভুজি: পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ডিম চপ, সমুচা, সিঙ্গারা
মিষ্টান্ন: জিলাপি, বাখরখানি, নারকেল লাড্ডু, ফালুদা, কুলফি
পুষ্টিকর আইটেম: ডাল চপ, ছোলা চাট, ফলের চাট, সবজি কেক
পানীয়: শরবত, লেবুর জল, আমের শরবত, দুধ-ফালুদা
প্রস্তুতির খুঁটিনাটি
বিভিন্ন পরিবারে ইফতার তৈরির সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। তেল কম ব্যবহার করা হয়, প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে তাজা উপকরণ ব্যবহার করা হয়। শিশুরা যাতে স্বাভাবিক স্বাদের খাবার খেতে পারে, তাই মশলা সীমিত রাখা হয়।
মিসরিন আক্তার, একজন ঘরের মাতা, বলেন, “আমরা সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে আলাদা আইটেম বানাই। পিয়াজু, বেগুনি বা সমুচা তৈরি করি পরিবারের ছোটদের সঙ্গে। এতে শিশুদের হাতের কাজের আনন্দও পাওয়া যায়।”
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে তৈরি ইফতার বাজারের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। তবে, তেল ও চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এছাড়া, খাবার তৈরি করার আগে হাত ও রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন রাখা আবশ্যক।
সামাজিক ও মানসিক উপকারিতা
ঘরে ইফতার বানানো শুধু খাদ্য নয়, এটি একটি সামাজিক ও মানসিক মিলনমেলা। পরিবারের সদস্যরা একত্রে বসে ইফতার তৈরি ও খাওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করে। এতে পারস্পরিক সহযোগিতা, পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা এবং খাবারের মূল্য বোঝার মনোভাব তৈরি হয়।
সমাপনী ভাবনা
রমজানের দিনে ঘরে তৈরি রকমারি ইফতার শুধু খাওয়ার আনন্দ দেয় না, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং অর্থ সাশ্রয়ও নিশ্চিত করে। শহরের ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকে একত্রে আনার পাশাপাশি ঘরে বানানো ইফতার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার একটি সুন্দর পথ।
