ইউসুফ কনফেকশানীর ইফতার: দামে কম, স্বাদে বেশ
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৪৫ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রমজান এলেই রাজধানীর অলিগলি জুড়ে জমে ওঠে ইফতার বাজার। বাহারি সব খাবারের গন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে এ ভিড়ের মধ্যেও কিছু দোকান আলাদা করে নজর কাড়ে স্বাদ আর সাশ্রয়ী দামের কারণে। তেমনি এক নাম—ইউসুফ কনফেকশনারীর ইফতার।
রাজধানীর ব্যস্ত একটি সড়কের পাশে ছোট্ট স্টল। নেই বাহারি সাজসজ্জা, নেই ঝাঁ চকচকে ব্যানার। তবু বিকেলের পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড়ে জমে ওঠে ইউসুফের এই দোকান। কারণ একটাই—কম দামে ভালো স্বাদের ইফতার।
স্টলে সাজানো থাকে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ডালপুরি, চিকেন রোল, জিলাপি, ছোলা ও খেজুর। প্রতিটি আইটেমই তাজা, আর দামও নাগালের মধ্যে। যেখানে পাশের দোকানে একটি বেগুনির দাম ১৫-২০ টাকা, সেখানে ইউসুফ বিক্রি করছেন ১০-১২ টাকায়। ডালপুরি ১৫ টাকা, আর গরম জিলাপি কেজি প্রতি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।
ইউসুফ বলেন, “আমি চেষ্টা করি সবার জন্য সাশ্রয়ী দামে ভালো খাবার দিতে। রোজাদার মানুষ যেন কষ্ট না পায়, এটাই আমার ইচ্ছা। লাভ একটু কম হলেও ক্রেতার সন্তুষ্টিই বড়।”
ক্রেতারাও সন্তুষ্ট। পাশেই দাঁড়িয়ে ইফতার কিনছিলেন অফিস ফেরত এক যুবক। তিনি বলেন, “প্রতিদিন এখান থেকেই ইফতার নেই। স্বাদ ভালো, দামও কম। বিশেষ করে বেগুনি আর জিলাপি খুব মজার।”
আরেকজন গৃহিণী জানান, “বাচ্চাদের জন্য নিয়মিত এখানে আসি। তেল কম, খাবারটা বেশ পরিষ্কার মনে হয়। দামও আমাদের সাধ্যের মধ্যে।”
দোকানের কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিন বিকেল ৩টার পর থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। সবকিছু তাজা রাখতে তারা দিনে একাধিকবার ভাজাপোড়া করেন। ফলে খাবারগুলো গরম ও মচমচে থাকে।
তবে শুধু স্বাদ আর দাম নয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর রাখছেন ইউসুফ। সীমিত পরিসরেও যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত করার চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, বড় বড় ব্র্যান্ডের ভিড়ে ইউসুফের মতো ছোট উদ্যোক্তারাই আসলে সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন। স্বল্প আয়ে যারা রোজা রাখেন, তাদের জন্য এমন দোকান অনেকটাই ভরসা।
সব মিলিয়ে, জমজমাট ইফতার বাজারে ইউসুফের এই ছোট্ট স্টল যেন এক অন্যরকম গল্প—যেখানে দামের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে স্বাদ আর আন্তরিকতা। তাই তো ক্রেতাদের মুখে একটাই কথা—ইউসুফের ইফতার, দামে কম, স্বাদে বেশ।
