ঢাকা, শুক্রবার ২০, মার্চ ২০২৬ ১৭:০৬:১৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বিশ্বে নারী প্রেসিডেন্ট: নেতৃত্বে নারীর অগ্রযাত্রা

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৯ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বিশ্ব রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। একসময় যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে নারীর উপস্থিতি ছিল বিরল, সেখানে এখন বিভিন্ন দেশে নারী প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষতার সঙ্গে। নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তারা।

বর্তমানে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নারী প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—

ইউরোপের দেশ গ্রীস-এর প্রেসিডেন্ট কাতেরিনা সাকেলারোপুলু। ২০২০ সালে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং গ্রীসের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিচারপতি হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তার নেতৃত্বে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট কাতালিন নোভাক-ও ইউরোপের অন্যতম নারী রাষ্ট্রপ্রধান। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়া নোভাক পরিবারনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু-এর প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই তিনি দায়িত্ব নেন এবং দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছেন।

উত্তর মেসিডোনিয়ার প্রেসিডেন্ট গর্ডানা সিলিয়ানভস্কা-দাভকোভা দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনের শিক্ষক থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে ওঠা তার যাত্রা নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত একজন নারী নেতা। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও ইউরোপমুখী নীতির জন্য তিনি প্রশংসিত।

এছাড়া এশিয়ার দেশ ভারত-এ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দ্রৌপদী মুর্মু। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়া মুর্মু দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী এবং প্রথম আদিবাসী নারী প্রেসিডেন্ট।

তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান আফ্রিকার অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট শিওমারা কাস্ত্রো-ও লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক নাম। সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নারী প্রেসিডেন্টদের উপস্থিতি শুধু প্রতীকী নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার ইস্যুতে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি মনোযোগী—এমন ধারণাও রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

তবে এখনও বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই নারী রাষ্ট্রপ্রধানের সংখ্যা কম। নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাধা পেরিয়ে নারীরা এই অবস্থানে পৌঁছাচ্ছেন। তবুও ধীরে ধীরে এই চিত্র বদলাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্ব রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং ক্রমবর্ধমান বাস্তবতা। রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর এই অগ্রযাত্রা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।