ঢাকা, রবিবার ২২, মার্চ ২০২৬ ১৭:০৪:৪৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

১০ দিনে নেপাল-তিব্বত: পাহাড় ও বিস্ময়ের এক ভ্রমণকাহিনি

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৫০ পিএম, ২২ মার্চ ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

হিমালয়ের ডাকে সাড়া দেওয়ার মধ্যে এক অদ্ভুত টান আছে। মেঘ ছোঁয়া পাহাড়, প্রাচীন মন্দির, বৌদ্ধ মঠ আর অচেনা সংস্কৃতির ভেতর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে নেপাল ও তিব্বত ভ্রমণ যেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ১০ দিনের এই যাত্রা কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং এক গভীর অনুভূতির গল্প।

কাঠমান্ডু: প্রাচীন শহরের স্পন্দন

যাত্রা শুরু হয় কাঠমান্ডু থেকে। বিমানবন্দর পেরিয়ে শহরে ঢুকতেই চোখে পড়ে পুরনো আর নতুনের মিশ্রণ। সরু গলি, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, ধূপের গন্ধ—সব মিলিয়ে এক রহস্যময় পরিবেশ।

শহর ঘুরতে গিয়ে দেখা মেলে বৌদ্ধনাথ স্তূপ-এর বিশাল শান্তিময় উপস্থিতি, পশুপতিনাথ মন্দির-এর গম্ভীরতা আর স্বয়ম্ভুনাথ-এর পাহাড়চূড়ার সৌন্দর্য। প্রতিটি স্থানে যেন ইতিহাস কথা বলে, আর মানুষ তারই অংশ হয়ে থাকে।

পোখরা: পাহাড় আর হ্রদের নীরব সৌন্দর্য

এরপর উড়াল পোখরা-র পথে। আকাশ থেকেই দেখা যায় তুষারঢাকা অন্নপূর্ণা, ফিশটেইল—যেন ছবির মতো সুন্দর।

পোখরায় সময় যেন ধীরে চলে। ফেওয়া হ্রদ-এর ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখা, নৌকায় ভেসে যাওয়া কিংবা দূরে পাহাড়ের ছায়া—সবকিছুই এক অদ্ভুত শান্তি এনে দেয়।

ভোরে সারাংকোট পাহাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখার অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সূর্যের প্রথম আলো যখন অন্নপূর্ণার চূড়ায় পড়ে, তখন মনে হয়—প্রকৃতি যেন নিজেই এক শিল্পী।

চাইলে হালকা ট্রেকিং করে যাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্পে। সেখানে দাঁড়িয়ে বিশাল পর্বতমালার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারা যায়, মানুষ আসলে কত ছোট, আর প্রকৃতি কত বিশাল।

লাসা: আধ্যাত্মিকতার শহর

নেপালের সবুজ ছেড়ে যাত্রা এবার তিব্বতের দিকে। গন্তব্য লাসা—যেখানে আকাশ আরও নীল, বাতাস আরও শুষ্ক, কিন্তু অনুভূতি আরও গভীর।

লাসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ পোটালা প্রাসাদ। লাল পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদ একসময় দালাই লামাদের আবাস ছিল। ভেতরে ঢুকলে ইতিহাস, ধর্ম আর শিল্প একসঙ্গে মিশে যায়।

এরপর জোখাং মন্দির—তিব্বতের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। এখানে হাজারো তীর্থযাত্রী মাথা নত করে প্রার্থনা করেন। মন্দিরের চারপাশে বারখোর স্ট্রিট-এ হাঁটলে দেখা যায় জীবন্ত সংস্কৃতি—প্রার্থনা, বাজার, মানুষের চলাচল—সব মিলিয়ে এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ।

পরের দিন ভ্রমণ ড্রেপুং মঠ ও সেরা মঠ-এ। এখানে সন্ন্যাসীদের তর্ক-বিতর্ক, দর্শনচর্চা আর প্রাচীন শিক্ষার ধারা এখনো জীবন্ত। বিশেষ করে সেরা মঠে সন্ন্যাসীদের যুক্তি-তর্ক দেখাটা সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা।

ফিরে দেখা: এক ভিন্ন পৃথিবীর স্পর্শ

এই ১০ দিনের ভ্রমণ শেষে আবার ফিরে আসা কাঠমান্ডুতে। কিন্তু মন পড়ে থাকে পাহাড়ে, মঠে, প্রার্থনার শব্দে।

এই যাত্রা কেবল স্থান দেখা নয়—এটি নিজেকে নতুনভাবে জানার একটি সুযোগ। কখনো পাহাড়ের নীরবতা, কখনো মন্দিরের ধ্যানমগ্নতা—সব মিলিয়ে নেপাল-তিব্বত ভ্রমণ হয়ে ওঠে এক আত্মিক অভিজ্ঞতা।

যারা প্রকৃতি, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন খুঁজছেন—তাদের জন্য এই ভ্রমণ সত্যিই এক জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়।