ঢাকা, বুধবার ২৫, মার্চ ২০২৬ ১৯:১৩:৫৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অ্যাপোলো মর্গে বকুল হায়দারের লাশ, বকেয়া ২৬ লাখ রূপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৫৫ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২৬ বুধবার

শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার ও গবেষক বকুল হায়দার

শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার ও গবেষক বকুল হায়দার

মানুষের দুঃসময়ে যিনি ছুটে যেতেন নিঃস্বার্থ হাতে, আজ তার নিজের পরিবার দাঁড়িয়ে আছে অসহায়তার প্রান্তে। শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার ও গবেষক বকুল হায়দার—যার আসল নাম এসএম খালেকুজ্জামান—তার নিথর দেহ পড়ে আছে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের মর্গে, শুধু অর্থের অভাবে দেশে ফিরতে পারছে না প্রিয়জনদের কাছে।

গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। রেখে গেছেন স্ত্রী, এক কন্যা, এক পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী মানুষকে।

জীবদ্দশায় বকুল হায়দার ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। কারও বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াতে কখনো দ্বিধা করেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তা থেকে শুরু করে পরিচিতির জোরে মানুষের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করতেন। জনকল্যাণ ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—আজ তার নিজের পরিবারই সাহায্যের জন্য হাত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের পরবর্তী জটিলতা, ফুসফুসের সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি চেন্নাইয়ে নেওয়া হয় তাকে। গত ৬ মার্চ অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। শ্বাসকষ্ট বাড়লে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে রক্তবমি শুরু হয়। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই সাহিত্যিক।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে তার ছড়া ও শিশু সাহিত্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ‘আকাশের টিপ’, ‘রঙের মানুষ’, ‘এইদিন সেইদিন’, ‘পাথর বাড়ির নীল রহস্য’সহ তার লেখা বইগুলো পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত।

পেশাগত জীবনে ঠিকাদারি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল চিকিৎসা তাকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করে দেয়। সহায়-সম্পদ বিক্রি করে, আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় চলছিল তার চিকিৎসা। আত্মমর্যাদাবোধের কারণে কখনো কারও কাছে সাহায্য চাননি।

আজ সেই মানুষটির মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে—কারণ, ২৬ লাখ রূপি বিল পরিশোধ না করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করছে না।

পরিবারের সদস্যরা একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে এনে দাফন করার মতো সামর্থ্যও নেই তাদের। একপ্রকার দিশেহারা হয়ে তারা তাকিয়ে আছেন সহৃদয় মানুষের দিকে—হয়তো কোথাও থেকে আসবে মানবিক সহায়তার হাত।

পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে।

সহযোগিতা পাঠানোর অ্যাকাউন্ট: প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকা
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ২১২৫২১৪০০৫৪৬৯

যোগাযোগ: মোহাম্মদ ইমতিয়াজ (শ্যালক) – ০১৭৩১৩১৮১২৩

মানবতার জন্য যিনি জীবন কাটিয়েছেন, শেষ বিদায়ের পথটা যেন তার জন্য এতটা কঠিন না হয়—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।