ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ১০:১৫:২১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

বিনোদন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:৫৭ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আশা ভোঁসলে

ভারতের কিংবদন্তি প্লেব্যাক সঙ্গীত শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ে হৃদরোগজনিত জটিলতা ও ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। 

আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, তিনি আর আমাদের মধ্যে নেই। আগামীকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে আজ সকালে বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই) জানায়, কিংবদন্তি এই শিল্পী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) তাকে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আট দশকের সংগীত জীবন: ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে, প্রয়াত লতা মঙ্গেশকারের ছোট বোন। আট দশকব্যাপী ক্যারিয়ারে তিনি সাড়ে ১২ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছেন। আশা ভোঁসলে বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন। তিনি মীনা কুমারী, মধুবালা, জিনাত আমান থেকে শুরু করে কাজল, উর্মিলা মাতোন্দকর এবং দক্ষিণ ভারতের পদ্মিনী ও বৈজয়ন্তীমালার মতো তারকাদের জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন।

তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘অভি না যাও ছোড় কার’, ‘আঁখোঁ কি মস্তি’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দুনিয়া মে লোগন কো’ এবং ‘জারা সে ঝুম লু ম্যায়’।

২০২৩ সালে নিজের ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে দুবাইয়ে ‘আশা@৯০: লাইভ কনসার্টে’ পারফর্ম করেন তিনি।  ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাঝা বাল’-এর মাধ্যমে তার সংগীতজীবন শুরু হয়। ২০১০-এর দশকের শেষ পর্যন্তও তিনি নিয়মিত গান গেয়েছেন, যা তাকে বিশ্ব সংগীত ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় পারফর্ম করা শিল্পীদের একজন করে তুলেছে।

ব্যক্তিজীবন: লতা মঙ্গেশকার ও আশা ভোঁসলের সবচেয়ে ছোট বোন হলেন উষা মঙ্গেশকার। মাঙ্গেশকার পরিবারে জন্ম নেওয়া এই বোনেরা ছিলেন পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকার ও শেভান্তি মাঙ্গেশকারের সন্তান। তাদের পাঁচ সন্তান- লতা, মীনা, আশা, উষা ও হৃদয়নাথ।

১৬ বছর বয়সে আশা ভোঁসলে তার ব্যক্তিগত সচিব গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন। তাদের তিনটি সন্তান হলেও এই দাম্পত্য জীবন টেকেনি। প্রথম স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের অভিযোগে ১৯৬০ সালে তিনি আলাদা হয়ে যান।

এর প্রায় ২০ বছর পর তিনি বিখ্যাত সুরকার রাহুল দেব বর্মণকে বিয়ে করেন। এই জুটি ভারতীয় সংগীত জগতে এক অনন্য শিল্পী-দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিল। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

আশা ভোঁসলের জীবনে ব্যক্তিগত শোকও কম ছিল না। তার মেয়ে বর্ষা ২০১২ সালে আত্মহত্যা করেন এবং বড় ছেলে হেমন্ত ২০১৫ সালে ক্যানসারে মারা যান। তার তিন সন্তানের মধ্যে বর্তমানে কেবল ছোট ছেলে আনন্দই জীবিত আছেন।