রমনার বটমূলে ভোরের সুরে নতুন বছরকে বরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৫৩ এএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার
রমনার বটমূলে ভোরের সুরে নতুন বছরকে বরণ
আজ পহেলা বৈশাখ। জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বানে যাত্রা শুরু হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর। ভোরের প্রথম আলো ফোটার সাথে সাথেই রাজধানীসহ সারা দেশ মেতে উঠেছে উৎসবের আমেজে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এসেছে নববর্ষ।
ভোরের স্নিগ্ধতায় রমনা বটমূলে প্রতিবারের মতো এবারও বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট। বাঁশির সুর আর ভৈরব রাগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে "এসো হে বৈশাখ, এসো এসো" গানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা রমনা এলাকা। অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে একটি মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে এবারের প্রভাতী আসরে।
ছায়ানটের অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙক্তি ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
আজ সকাল সোয়া ৬টায় সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। গানটি পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব ও সমুদ্র শুভম। অনুষ্ঠানে মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল, যার মধ্যে আটটি ছিল সম্মেলক সংগীত এবং ১৪টি একক গান ও আবৃত্তি।
একক সংগীতের পর্বে মাকসুদা আক্তার অন্তরা গেয়ে শোনান ‘এ কি সুন্দর শোভায় ভরা’ এবং আজিজুর রহমান তুহিন পরিবেশন করেন ‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা’। এছাড়া সেমন্তী মঞ্জরীর কণ্ঠে গীত হয় ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ এবং বিটু কুমার শীল গেয়েছেন ‘আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে’। শ্রাবন্তী ধর পরিবেশন করেন ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার’। অন্যদিকে বিজন চন্দ্র মিস্ত্রীর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে’।
অনুষ্ঠানের অন্য এক পর্যায়ে নাসিমা শাহীন ফ্যান্সির কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘জাগো আনন্দ যোগে’ এবং খায়রুল আনাম শাকিল পরিবেশন করেন তেজদীপ্ত ‘শিকল ভাঙার গান’।
এ ছাড়া শারমিন সাথী ইসলাম ময়নার কণ্ঠে ‘তোমার কাছে এ বর মাগি’ এবং তানিয়া মান্নানের কণ্ঠে ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গানগুলো শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
লাইসা আহমদ লিসা ‘আমি তোমার প্রেমে হবো সবার’ এবং বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়ে শোনান ‘বিপুল তরঙ্গ রে’। চন্দনা মজুমদারের কণ্ঠে ‘বড় সাধ করে পেয়েছি তোমায়’ গানটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে ছায়ানটের বিভিন্ন দলের সম্মিলিত পরিবেশনার পাশাপাশি শিশুদের দলীয় গান ও আবৃত্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
একটি বিশেষ পর্বে সলিল চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়, যেখানে ‘ও আলোর পথযাত্রী, এই যে রাত্রি এখানে থেমো না’ গানটি গাওয়া হয়। এ ছাড়া অন্য একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার ও সুরকার মতলুব আলীর নির্বাচিত কিছু গান পরিবেশিত হয়। ছাত্র, শিক্ষক এবং জ্যেষ্ঠ শিল্পীসহ প্রায় ২০০ জন শিল্পী দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
গত ছয়দশক ধরে ছায়ানটের এই অনুষ্ঠানটি দেশের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা বাঙালি পরিচয় ও ঐতিহ্যের এক অভিন্ন উদযাপনে সবস্তরের মানুষকে একত্রিত করে। সবশেষে ডা. সারওয়ার আলীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়
