ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৭:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সাগর কলা: গরমের দিনে সহজ পুষ্টির ভরসা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০০ পিএম, ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার

সাগর কলা

সাগর কলা

হলুদ রঙের মোটা গড়নের এক পরিচিত ফল—সাগর কলা। গ্রামের হাট থেকে শহরের ফুটপাত, স্কুলের টিফিন থেকে শ্রমজীবী মানুষের সকালের খাবার—সবখানেই সহজে দেখা মেলে এই কলার। দাম তুলনামূলক কম, পেট ভরায় দ্রুত, আবার পুষ্টিগুণেও ভরপুর। তাই সাগর কলাকে অনেকেই বলেন “গরিবের শক্তির ফল”।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাগর কলার চাষ হয়। বিশেষ করে নরসিংদী, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর উৎপাদন বেশি। আকারে তুলনামূলক বড় হওয়ায় অন্য কলার চেয়ে এটি সহজেই আলাদা করা যায়। পাকলে এর খোসা উজ্জ্বল হলুদ হয়ে ওঠে এবং ভেতরের অংশ হয় নরম ও মিষ্টি স্বাদের।

পুষ্টিবিদদের মতে, সাগর কলায় রয়েছে প্রচুর শর্করা, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি ও খাদ্যআঁশ। শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে এটি বেশ কার্যকর। গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে যে খনিজ উপাদান বেরিয়ে যায়, কলার পটাশিয়াম তা পূরণে সহায়তা করে।

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত কলা খেলে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। আবার অনেকেই সকালে খালি পেটে বা ব্যায়ামের আগে কলা খেয়ে থাকেন শক্তি বাড়ানোর জন্য। শিশুদের জন্যও এটি একটি উপকারী ফল।

রাজধানীর মগবাজারের ফল বিক্রেতা রফিক বলেন, “সাগর কলার চাহিদা সবসময়ই থাকে। গরম বাড়লে মানুষ বেশি কিনে। অনেকেই সকালে নাস্তার সঙ্গে কলা খায়।”

শুধু খাবার হিসেবেই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও সাগর কলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তুলনামূলক কম খরচে চাষ করা যায় বলে অনেক কৃষক কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। একবার গাছ লাগালে দীর্ঘ সময় ফল পাওয়া যায়, ফলে লাভও মন্দ নয়।

তবে কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও বিভিন্ন রোগের কারণে অনেক সময় ফলন কমে যায়। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীর আধিপত্য থাকায় ন্যায্য দামও পান না অনেকে।

তারপরও মানুষের খাদ্যতালিকায় সাগর কলার গুরুত্ব কমেনি। সহজলভ্য, সস্তা এবং পুষ্টিকর হওয়ায় এই ফল এখনও বাংলার মানুষের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে আছে। গরমের দিনে এক ছড়া সাগর কলা যেন শুধু ফল নয়, ছোট্ট এক স্বস্তির নাম।