চলছে দাও-বটি ধার, হোগলা ও গো-খাদ্য বিকিকিনি
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:০৭ পিএম, ২৭ মে ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই রাজধানীর পশুর হাট ও পাড়ায় পাড়ায় জমে উঠেছে দাও-বটি ধার দেওয়া, হোগলা বিক্রি আর গো-খাদ্যের অস্থায়ী বাজার। কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নগরবাসীর চাহিদাকে কেন্দ্র করে মৌসুমি এই ব্যবসায় এখন চলছে রমরমা বেচাকেনা।
রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর ও মেরাদিয়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরুর পাশাপাশি জমজমাট হয়ে উঠেছে দাও-বটি ধার দেওয়ার ছোট ছোট স্টল। টুংটাং শব্দ তুলে আগুনের ফুলকি ছড়াচ্ছেন কামাররা। কেউ ছুরি ধার দিচ্ছেন, কেউ বটি, কেউ আবার পুরোনো দা নতুনের মতো চকচকে করে তুলছেন।
গাবতলী হাটে দাও-বটি ধার দিতে আসা কামার রহিম মিয়া হাসতে হাসতে বলেন, “সারা বছর এমন কাম নাই। ঈদের আগে তিন-চার দিন ঘুমাইতে পারি না। মানুষ এখন ধার ছাড়া কিছু বুঝে না!”
তার পাশেই ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা সোহেল রানা বলেন, “বছরে একবারই তো কোরবানি। তাই ধারটা ভালো হওয়া লাগবেই। না হলে কসাইরাও বকা দেয়!”
এদিকে হাটের বাইরে সারি সারি করে বিক্রি হচ্ছে হোগলা। কোরবানির মাংস কাটাকাটি ও রাখার কাজে ব্যবহার হয় এসব হোগলা ও পাটি। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময়ই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসা।
মাদারীপুর থেকে হোগলা নিয়ে আসা বিক্রেতা জালাল শেখ বলেন, “একেকটা হোগলা ৩০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেইকা মানুষ কিনতেছে। বিশেষ করে যারা বাসার গ্যারেজ বা ছাদে কোরবানি দেয়, তারা বেশি নেয়।”
শুধু তাই নয়, জমে উঠেছে গো-খাদ্যের বাজারও। খড়, ভুসি, ঘাস, খৈল—সবকিছুরই বাড়তি চাহিদা এখন। হাটে আসা গরুকে সতেজ রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলছে খাবার খাওয়ানো।
আফতাবনগর হাটের গো-খাদ্য বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, “গরু কিনে মানুষ এখন ভালো খাবার খাওয়ায়, যেন দেখতে সুন্দর লাগে। তাই খড়-ভুসির বিক্রি অনেক বেড়েছে।”
একজন ক্রেতা মজা করে বললেন, “গরুরও এখন ঈদের মেন্যু চলে!”
হাটজুড়ে এমন ব্যস্ততা আর উৎসবমুখর পরিবেশে বোঝাই যাচ্ছে, কোরবানির ঈদ শুধু পশু কেনাবেচার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট ছোট পেশা ও মানুষের জীবিকা। দাও-বটির ঝনঝন শব্দ, হোগলার গন্ধ আর গো-খাদ্যের স্তূপে তাই এখন জমে উঠেছে ঈদের আলাদা এক অর্থনীতি।
