ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:২৬:৫৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মেরিলিন মনরোর জীবনের আলোচিত কিছু অধ্যায়

বিনোদন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:২৫ পিএম, ১ জুন ২০২৬ সোমবার

মেরিলিন মনরো

মেরিলিন মনরো

হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নারীদের একজন মেরিলিন মনরো। রুপালি পর্দায় হাসি, সৌন্দর্য আর আবেদনময় উপস্থিতি দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন এক গভীর একাকিত্ব, অস্থিরতা ও বেদনার নাম। জন্মের একশ বছর পরও তার জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল যেন ফুরোয় না।

১৯২৬ সালের ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নরমা জিন মর্টেনসন নামে জন্মগ্রহণ করেন মেরিলিন মনরো। শৈশব থেকেই তাকে লড়তে হয়েছে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে। মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত মায়ের কারণে ছোটবেলার বড় একটি সময় কেটেছে পালক পরিবার ও অনাথাশ্রমে।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে অনাথাশ্রমে যাওয়া এড়াতে জেমস ডোহার্টিকে বিয়ে করেন তিনি। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি কারখানায় কাজ করার সময় তার ছবি তোলেন এক সামরিক আলোকচিত্রী। সেখান থেকেই মডেলিং জগতে প্রবেশ এবং ধীরে ধীরে হলিউডে পথচলা শুরু।

১৯৫০-এর দশকে ‘জেন্টেলমেন প্রেফার ব্লন্ডস’, ‘হাউ টু ম্যারি আ মিলিয়নিয়ার’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ ও ‘সাম লাইক ইট হট’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। তবে পর্দায় ‘গ্ল্যামার গার্ল’ হিসেবে পরিচিত হলেও নিজেকে শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখাতে চাইতেন না। অভিনয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি নিউইয়র্কের বিখ্যাত অ্যাক্টরস স্টুডিওতে প্রশিক্ষণও নেন।

মেরিলিনের প্রেম ও বিবাহিত জীবনও ছিল ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তার প্রথম স্বামী ছিলেন জেমস ডোহার্টি। পরে বেসবল কিংবদন্তি জো ডি ম্যাজিওকে বিয়ে করেন। কিন্তু মাত্র নয় মাসের মধ্যেই সেই সংসার ভেঙে যায়। এরপর বিখ্যাত নাট্যকার আর্থার মিলারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি আলোচিত অধ্যায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন। যদিও এ বিষয়ে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রমাণিত হয়নি, তবুও সেই আলোচনা আজও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে।

ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থেকেও মেরিলিন মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং ওষুধনির্ভরতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। খ্যাতির ঝলকানির আড়ালে তিনি বারবার ভেঙে পড়তেন। অনেক জীবনীকারের মতে, শৈশবের ট্রমা তাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

১৯৬২ সালের আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় মেরিলিন মনরোকে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। সরকারি প্রতিবেদনে অতিরিক্ত বারবিচুরেট গ্রহণকে মৃত্যুর কারণ বলা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য ও নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আজও মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে আছে।

মৃত্যুর ছয় দশকের বেশি সময় পরও মেরিলিন মনরো কেবল একজন অভিনেত্রী নন, বরং এক সাংস্কৃতিক প্রতীক। তার জীবন যেমন খ্যাতির শিখরে ওঠার গল্প, তেমনি এটি এক নারীর নিঃসঙ্গতা, সংগ্রাম এবং অপূর্ণতারও ইতিহাস। তাই জন্মশতবর্ষেও তাকে ঘিরে মানুষের আবেগ, গবেষণা ও আগ্রহ এতটুকু কমেনি।