ঢাকা, বুধবার ১৭, জুন ২০২৬ ২:২০:৫২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আমে কীটনাশক আছে কিনা ঘরেই করুন পরীক্ষা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:২২ পিএম, ১৬ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

গ্রীষ্মকাল মানেই বাজারে নানা জাতের পাকা আমের ছড়াছড়ি। হিমসাগর, ল্যাংড়া ও ফজলি থেকে শুরু করে প্রায় সব জাতের আমে ম ম করছে চারপাশ। আমপ্রেমীদের জন্য এটি যেন বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সময়। তবে আম কিনতে গিয়ে অনেকের মনেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—এই আম কি সত্যিই নিরাপদ?

বর্তমানে বাজারে অনেক আম দ্রুত পাকাতে কিংবা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ও কৃত্রিম কার্বাইড ব্যবহার করে থাকেন। যা শুধু আমের স্বাদই নষ্ট করে না, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ঝুঁকির কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বিষাক্ত কীটনাশকযুক্ত আম খেলে পেটের রোগ, লিভারের ক্ষতি, তীব্র মাইগ্রেন এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে ভয় পেয়ে আম খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ কৌশল জানলেই ঘরে বসেই বুঝে নেওয়া সম্ভব আমটি নিরাপদ কিনা। আমে কীটনাশক আছে কিনা তা বোঝার উপায় জেনে নিন।

আমের গায়ের সাদাটে বা ধূসর আস্তরণ

আম কেনার সময় তার খোসার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি দেখেন আমের খোসার ওপর এক ধরণের সাদাটে, পাউডারের মতো বা ধূসর রঙের ছোপ ছোপ আস্তরণ জমে রয়েছে, তবে বুঝবেন সেটিতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের খোসা সাধারণত মসৃণ ও চকচকে হয় এবং তাতে কোনো রাসায়নিক পাউডারের অবশিষ্টাংশ থাকে না।

রঙের অস্বাভাবিক সমতা (কৃত্রিমভাবে পাকা আম)

কীটনাশক এবং কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম দেখতে অত্যন্ত লোভনীয় ও নিখুঁত হয়। পুরো আমটিই এক গাঢ় হলুদ রঙে সেজে থাকে, কোথাও কোনো সবুজ ভাব থাকে না। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা আমের রঙে একটা অসমন্বয় থাকে। গাছের আম সম্পূর্ণ এক রঙের হয় না; তার কিছু অংশ হলুদ হলে, কিছু অংশে হালকা সবুজ বা লালচে ভাব বজায় থাকে। অতিরিক্ত নিখুঁত হলুদ আম দেখলেই সাবধান হোন।


আমের বোঁটা এবং সুগন্ধ পরীক্ষা

তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুকলে একটি মিষ্টি, তীব্র ও চনমনে আমের সুগন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু যে আমে অতিরিক্ত কীটনাশক বা ক্যামিক্যাল রয়েছে, সেই আমের বোঁটার কাছ থেকে কোনো সুগন্ধ বের হয় না। বরং অনেক সময় ঝাঁঝালো রাসায়নিক বা ওষুধের মতো এক ধরনের কটু গন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ক্যামিক্যাল যুক্ত আমের বোঁটার চারপাশটা শুকনো ও কালো দেখায়।

পানির বালতিতে ডুবিয়ে পরীক্ষা

বাজার থেকে আম এনেই একটি বড় বালতিতে পানি নিয়ে আমগুলো তাতে ছেড়ে দিন। যদি দেখেন আমগুলো বালতির পানিতে তলায় ডুবে গেছে, তবে নিশ্চিন্ত থাকুন—সেগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাকা এবং নিরাপদ। কিন্তু আমগুলো যদি পানির ওপরে ভেসে থাকে, তবে বুঝবেন সেগুলোতে কার্বাইড বা ভারী কীটনাশক দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে এবং সেগুলোর ভেতরে প্রাকৃতিক রস শুকিয়ে ফাঁপা হয়ে গিয়েছে।

খাওয়ার সময় মুখের স্বাদ ও অনুভূতি

কীটনাশকযুক্ত আম কাটলে ভেতরের শাঁস বা পাল্পের রঙে তফাত দেখা যায়। হয়তো আমের বাইরে পুরো হলুদ, কিন্তু কাটার পর ভেতরের অংশ সাদাটে বা হালকা হলুদ রয়ে গেছে। এ ছাড়া এই আম মুখে দিলে মিষ্টি স্বাদের চেয়েও জিভে একটা হালকা জ্বালাপোড়া বা কষায় ভাব অনুভূত হতে পারে, যা রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ।

কীটনাশকের বিষমুক্ত করার ঘরোয়া উপায়

আম খাওয়ার অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে সেটিকে সাধারণ পানির বালতিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে আমের ভেতরের অতিরিক্ত তাপ ও কীটনাশকের তীব্রতা অনেকটাই কমে যায়। আরও ভালো হয় যদি পানির মধ্যে সামান্য বেকিং সোডা বা ভিনেগার মিশিয়ে আমগুলো ধুয়ে নেন। খাওয়ার সময় আমের খোসাটি সবসময় একটু মোটা করে কেটে বাদ দিন।

সচেতনতাই হলো সুস্থ থাকার একমাত্র চাবিকাঠি। ক্ষণিকের স্বাদের জন্য নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না। আম কেনার সময় এই সহজ পরীক্ষাগুলো মাথায় রাখুন।