ঢাকা, শনিবার ২০, জুন ২০২৬ ১৭:১৬:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সাগরকলা কেন খাবেন, জেনে নিন পুষ্টিগুণ

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:৫৬ এএম, ২০ জুন ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

বাংলাদেশের বাজারে সারা বছরই পাওয়া যায় এমন ফলগুলোর মধ্যে কলা অন্যতম। আর বিভিন্ন জাতের কলার মধ্যে সাগর কলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং সহজলভ্যতার কারণে এটি প্রায় সব বয়সী মানুষের কাছেই প্রিয়। সকালে নাশতায়, বিকেলের হালকা খাবারে কিংবা শরীরচর্চার পর শক্তি ফেরাতে অনেকেই সাগর কলা খেয়ে থাকেন। কিন্তু শুধু স্বাদের জন্য নয়, সুস্বাস্থ্যের জন্যও সাগর কলা হতে পারে একটি চমৎকার খাদ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন একটি বা দুটি সাগর কলা খাওয়ার অভ্যাস শরীরের নানা উপকারে আসতে পারে। এতে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি, আঁশ এবং প্রাকৃতিক শর্করা, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

শক্তির প্রাকৃতিক উৎস

সাগর কলা প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেটের একটি ভালো উৎস। এতে থাকা গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায়। তাই খেলোয়াড়, শ্রমজীবী মানুষ কিংবা যারা দীর্ঘ সময় কাজ করেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের বন্ধু

সাগর কলায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শরীরে সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

হজমশক্তি বাড়ায়

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সাগর কলা বেশ উপকারী। এতে থাকা খাদ্য আঁশ হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। নিয়মিত কলা খেলে পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

সাগর কলায় থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও মৌসুমি রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি দেয়।

মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক

গবেষণায় দেখা গেছে, কলায় থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের উপাদান শরীরে সেরোটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে। সেরোটোনিনকে ‘হ্যাপি হরমোন’ বলা হয়। এটি মন ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

কিডনির জন্য উপকারী

পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়ার অভ্যাস কিডনির কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে যাদের কিডনির জটিল রোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খাওয়া উচিত।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

অনেকেই মনে করেন কলা খেলে ওজন বেড়ে যায়। বাস্তবে পরিমিত পরিমাণে সাগর কলা খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার জন্য উপকারী

সাগর কলা সহজে হজম হয় বলে শিশুদের জন্য এটি একটি আদর্শ ফল। একই সঙ্গে বয়স্কদের জন্যও এটি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য। অসুস্থতার পর দুর্বলতা কাটাতেও চিকিৎসকেরা অনেক সময় কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বাজারে সহজলভ্য, দামও তুলনামূলক কম

অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় সাগর কলার দাম কম এবং সারা বছরই পাওয়া যায়। তাই কম খরচে বেশি পুষ্টি পেতে চাইলে সাগর কলা হতে পারে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শেষ কথা

প্রকৃতির এক অনন্য উপহার সাগর কলা। এটি শুধু ক্ষুধা মেটায় না, শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে একটি বা দুটি সাগর কলা যোগ করলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখা থেকে শুরু করে হজমশক্তি উন্নত করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং শরীরকে সতেজ রাখার মতো নানা উপকার পাওয়া যেতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে চাইলে সাগর কলাকে অবহেলা নয়, বরং খাদ্যতালিকার নিয়মিত সঙ্গী করে তুলুন।