ঢাকা, শনিবার ০৪, জুলাই ২০২৬ ১৬:১৫:২৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অতিরিক্ত কফি পান কি ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৬ পিএম, ৪ জুলাই ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

আমরা অনেকেই এক কাপ কফি দিয়ে দিন শুরু করতে পছন্দ করি। কিন্তু একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে এই আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ অভ্যাসটি আসলে আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি ঘটাতে পারে। সত্যিই কি তাই? কফি নিজেই একটি পানীয় হওয়া সত্ত্বেও কি আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত-

কফিকে ডিহাইড্রেশনের কারণ মনে করা হয় কারণ এতে উপস্থিত ক্যাফেইনের হালকা মূত্রবর্ধক প্রভাব রয়েছে, অর্থাৎ এটি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে যারা নিয়মিত কফি পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে সাধারণত ডিহাইড্রেশন হয় না, কারণ কফিতে থাকা তরল প্রস্রাবের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধিকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করা দৈনিক তরল গ্রহণের ক্ষেত্রে পানি এবং অন্যান্য পানীয়ের মতোই অবদান রাখে।

খুব বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে, সারাদিন পানির পরিবর্তে কফি পান করলে, পর্যাপ্ত পানি পান না করে অতিরিক্ত ব্যায়াম করণে, অথবা গরম আবহাওয়ায় বাস করলে যেখানে শরীরে পানির চাহিদা বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) মোট ক্যাফেইন গ্রহণের দৈনিক সীমা নির্ধারণ করেছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই সীমা হলো দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম।

কফি থেকে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি সাধারণত কম, তবে কেউ কেউ ক্যাফেইনের প্রভাবে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া। যারা নিয়মিত কফি পান করেন না, তারা হঠাৎ করে কফি খাওয়া শুরু করলে বারবার প্রস্রাব হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি, কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের শরীরে পানির পরিমাণ সম্পর্কে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

কফির কারণে সৃষ্ট ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের উপায়

* পরিমিত পরিমাণে কফি পান করুন।
* সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা নিশ্চিত করুন।
* একটি কার্যকরী পরামর্শ হলো, কফির সাথে এক গ্লাস পানি পান করা, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়।
* আপনার শরীরের সংকেত, যেমন তৃষ্ণা এবং প্রস্রাবের রঙের দিকে মনোযোগ দিন।
* শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক থাকার সাধারণ লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ হওয়া উচিত।
* পানি, ফল, শাকসবজি, স্যুপ এবং অন্যান্য পানীয় থেকে পরিমিত পরিমাণে তরল গ্রহণ করলে তা শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।