বাঁশির সুরে নবান্নের শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:২০ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার
ঢাবির চারুকলার বকুলতলায় নবান্ন উৎসব। ছবি : সোমা দেব
শীতের সকালে বাঁশির সুরেই শুরু হলো হেমন্তের প্রাণ নবান্নের। আজ বৃহস্পতিবার ছিল অগ্রাহায়নের প্রথম দিন। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন ছিল নবান্ন উৎসবের। সকাল ৭টা ১মিনিটে বাঁশির সুরে দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে শিল্পিরা গান, নাচ, আবৃত্তি পরিবেশন করেন। সকাল পৌনে ১০টায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
এরপর বেলা ৩টায় আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। কাল দ্বিতীয় দিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একটানা উৎসব চলবে বলে আয়োজকরা জানান।
গত ১৯ বছর ধরে বছরে একদিন নবান্ন উৎসব পালন হয়ে আসলেও এবার তা দুইদিন পালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের সাথে ছুটির দিন মিলে যাওয়ায় তা দুই দিনব্যাপী করা হচ্ছে বলে জানান লায়লা হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উদ্যাপন পর্ষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম, উৎসবের চেয়ারপারসন অভিনয় ও নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ল্যাব এইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম এবং উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিজন ও আইটিআই এর সভাপতি রামেন্দ্র মজুমদার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নবান্ন উৎসবের চেয়ারপারসন অভিনয় ও নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান বলেন, আমাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনেরও ঝুঁকি রয়েছে। সবকিছু চিন্তা করে এই উৎসবের আয়োজন। কিন্তু তারপর উৎসব আয়োজনে বিভিন্নভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকে পিঠাপুলির নাম জানে না, চেনে না। উৎসবের প্রধান লক্ষ শেকড়ের সন্ধান দেয়া। নতুন প্রজন্মকে হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্তে করা। কারণ আমাদের বেশির ভাগ লোকজ ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালামও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ‘সংস্কৃতি বান্ধব সরকার’ থাকার পরও আয়োজনে পদেপদে বাধা দেয়া হয়েছে। তার অভিযোগ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ সহযোগিতা করলেও চারুকলা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেনি।
তিনি জানান, দুই দিনের এই আয়োজনে গান, নাচ, আবৃত্তি ছাড়াও থাকবে টাঙ্গাইলের সংযাত্রা ও নড়াইলের পটগান। পাশাপাশি ভারতের আসাম থেকে আসা শিল্পীরাও পরিবেশনায় অংশ নেবেন।
