ঢাকা, রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬ ৩:১০:৫৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনির পোস্ট

বিনোদন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১১ এএম, ১১ জুলাই ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ২০২১ সালের ৪ আগস্ট গ্রেপ্তার হয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি। সে সময় রাজধানীর বনানীতে তার নিজ বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব-১ এর সদস্যরা।

অভিযানে তার বেডরুম থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের অভিযোগ এনে অভিনেত্রী ও সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করে র‌্যাব। পরে বনানী থানায় দায়ের হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা কারাভোগ করেন এ অভিনেত্রী।

দীর্ঘদিন পর সে ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। এছাড়াও তার গ্রেপ্তার ও কারাবাসের ঘটনা নিয়ে র‍্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খাইরুল ইসলামের বক্তব্যের পর ‘কিছু সত্য প্রকাশ্যে আনায়’ তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেছেন, বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে’ তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও পরবর্তীতে পুলিশের আইজি হওয়া ‘চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে’ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই সময় তার বিরুদ্ধে হওয়া পদক্ষেপ ছিল ‘অন্যায় ও বেআইনি’।

পোস্টের শুরুতে র‍্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল যে, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড ও টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল।’

সেই পরিস্থিতি তার জীবনকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত করেছে’ উল্লেখ করে পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ‘গ্রেপ্তারের দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছি। যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।’


‘রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন নারী শিল্পীর জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছে’ দাবি করে পোস্টে পরী বলেন, ‘আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন। এতগুলো দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।’

পোস্টে তার বিরুদ্ধে হওয়া সেই মামলাকে ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সাজানো’ উল্লেখ করে তা থেকে অব্যাহতি পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পরীমনি তার পোস্টে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবে?’

নিজের ‘বিতর্কিত’ পরিচয় নিয়ে পরীমনি বলেন, ‘আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সবসময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার প্রভাব আমি আজও বহন করে চলেছি।’

কাউকে ছোট বা অপমান করতে চান না জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকুক। সে আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতামূলক।

কঠিন সময়ে পাশে থাকা পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক ও ভক্তদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পরীমনি। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং আমার অসংখ্য ভক্ত আপনাদের প্রতি আমি আজীবন গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থনই আমাকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।’

অতীতের ক্ষত পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক টকশোতে পরীমনির গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নে র‍্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম বলেন, এটা একটা ইন্টারেস্টিং বিষয়। হঠাৎ ডিজি (তৎকালীন র‌্যাব প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন) ফোন দিয়ে বলেন, ‘পরীমনিকে ধরার একটা ইনস্ট্রাকশন আসছে আমার কাছে, আপনারা এক্সিকিউট করেন’।

‘পরীমনিকে কেন ধরা হবে’ এমন প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন র‌্যাব ডিজি জানিয়েছিলেন, ‘উনার (পরীমনি) নামে অনেক অভিযোগ আছে, উনি ব্ল্যাকমেইল করেন।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিজি বললেন— পরীমনির ডিভাইস ফরেনসিক করতে হবে। রাতে অফিসার ফোন দিয়ে বলেন, ‘উনার (পরীমনি) ডিভাইস ফরেনসিক করেছি, কোনো কিছু পাইনি।’

পরে ডিজিকে তিনি জানান, ‘অন্য এজেন্সির সঙ্গে শেয়ার করা কতটা যৌক্তিক।’ তখন ডিজি বলেন, ‘অনেকে ফোন দিচ্ছেন। একটু শেয়ার করতে হবে।’

র‍্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ‘তারপর আসামি হিসেবে পরীমনিকে চালান দেওয়া হলো। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা হলো। ওই দিন সন্ধ্যায় আমার বদলি হয়।’

বদলির পর পরবর্তীতে একসময় পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে তৎকালীন র‍্যাব ডিজি আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম। জবাবে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছিলেন, ‘এটা ইনস্ট্রাকশন ছিল। সে (পরীমনি) ঊর্ধ্বতন মহলের অনেককে ডিস্টার্ব করছে, ব্ল্যাকমেইল করছে। এটাকে প্রতিকার করা দরকার ছিল।’