ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ১৫:০৬:৩৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

জলাবদ্ধতায় চলাচলে যেসব ভুলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, সতর্ক হোন 

লাইফস্টাইল ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:১১ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

টানা বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার রাস্তা পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। এমন অবস্থায় কাজ, পড়াশোনা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে অনেককেই বাইরে বের হতে হয়। তবে জলাবদ্ধ রাস্তায় সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই নিরাপদে চলাচলের জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জমে থাকা পানিতে তাড়াহুড়া করে হাঁটা ঠিক নয়। পরিচিত রাস্তা পানিতে ডুবে গেলে কোথায় গর্ত, কোথায় ভাঙা অংশ বা কোথায় ম্যানহোলের ঢাকনা নেই, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ধীরে চলুন এবং সম্ভব হলে অন্যরা যে পথ দিয়ে যাচ্ছে, সেটি অনুসরণ করুন। পানি বেশি গভীর হলে বা স্রোত থাকলে সেই পথে না যাওয়াই নিরাপদ।

জলাবদ্ধতার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। তাই বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার, ছিঁড়ে পড়া তার বা বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে এমন জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে। পানিতে পড়ে থাকা কোনো তার স্পর্শ করা যাবে না। এমন কিছু চোখে পড়লে আশপাশের মানুষকে সতর্ক করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।

জমে থাকা পানির নিচে খোলা ম্যানহোল বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই অচেনা বা অতিরিক্ত পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় হাঁটার সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের কখনোই এমন রাস্তায় একা যেতে দেওয়া উচিত নয়।

টানা বৃষ্টির সময় সাপও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। তাই বাড়ির উঠান, গ্যারেজ, সিঁড়ির নিচে বা ঝোপঝাড়ের আশপাশে সতর্ক থাকতে হবে। রাতে বাইরে বের হলে আলো সঙ্গে রাখা ভালো। জুতা পরার আগে ভেতরে ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাপে কামড় দিলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা ঘরোয়া চিকিৎসা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

জলাবদ্ধ রাস্তায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। সামনের কোনো বড় গাড়ি পানি পার হচ্ছে দেখেই একই পথে নামা ঠিক নয়। কারণ পানির গভীরতা সব ধরনের যানবাহনের জন্য সমান নিরাপদ নাও হতে পারে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে।

অনেকে জুতা ভিজে যাওয়ার ভয়ে খালি পায়ে পানি পার হন। এটি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ পানির নিচে ভাঙা কাচ, পেরেক বা ধারালো বস্তু থাকতে পারে। তাই এমন জুতা পরা উচিত, যা পায়ে ভালোভাবে আটকে থাকে এবং ভিজলেও সহজে নষ্ট হয় না।

শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। শিশুদের জমে থাকা পানিতে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে পিচ্ছিল রাস্তা বা পানির নিচে থাকা গর্তের কারণে বয়স্করা সহজেই পড়ে যেতে পারেন। তাই তাদের একা বাইরে না পাঠানোই ভালো।

বাইরে বের হলে মোবাইল ফোন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, টাকা বা ওষুধ জলরোধী ব্যাগে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে হঠাৎ পানিতে পড়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

জলাবদ্ধ রাস্তা পেরিয়ে বাসায় ফিরলে হাত-পা ও শরীরের পানির সংস্পর্শে আসা অংশ পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। পায়ে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি প্রয়োজন না থাকলে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার সময় কিছুটা অপেক্ষা করাই নিরাপদ। বাইরে বের হওয়ার আগে পরিচিত কারও কাছ থেকে রাস্তার অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো।

বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা পরিচিত সমস্যা হলেও এর ঝুঁকি কখনোই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সামান্য সচেতনতা ও সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পারে। তাই তাড়াহুড়া না করে নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে চলাচল করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।