নতুন মায়েদের যেসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন
লাইফস্টাইল ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৩৯ পিএম, ৯ আগস্ট ২০২৬ রবিবার
সংগৃহীত ছবি
সন্তান জন্মের পর মায়ের জীবনযাত্রায় আসে বড় পরিবর্তন। নবজাতকের যত্নের পাশাপাশি নিজের খাবার ও পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পর্যাপ্ত পুষ্টি ও তরল গ্রহণ জরুরি।
জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মায়ের দুধই প্রধান ও প্রয়োজনীয় খাবার। তাই এ সময়ে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি না হওয়াও জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মায়ের সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি বুকের দুধ উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে।
কী খাবেন নতুন মায়েরা?
প্রসবের পর অন্য সময়ের তুলনায় স্তন্যদানকারী মায়ের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত আমিষ বা প্রোটিন রাখা দরকার।
এ জন্য পাতে রাখতে পারেন— দুধ ও দই, ডিম, মাছ ও মাংস, বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়া, বাদাম ও শাকসবজি।
পাশাপাশি শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখাও জরুরি। দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যুপ ও দুধের মতো স্বাস্থ্যকর তরলও খাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন
ডিমের সাদা অংশ নাকি কুসুম, কোন অংশে প্রোটিন বেশি?
ক্যালশিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি নয়
সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীরে ক্যালশিয়ামের চাহিদা বাড়ে। তাই দুধ, দই, চিজ, তিল, রাগি ও মাছ খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।
আয়রনের ঘাটতি পূরণে সবুজ শাকসবজি, ডিম এবং পরিমিত পরিমাণে লাল মাংস উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন ডি-এর জন্য ডিম ও দুধ খাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি-এর ওষুধও নেওয়া যেতে পারে।
শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য মায়ের খাবারে আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকা দরকার। মাছ, আখরোট ও তিসির বীজ এ ক্ষেত্রে ভালো উৎস হতে পারে।
কোন ভেষজ খাবার সহায়ক হতে পারে?
কিছু খাবারে এমন উপাদান রয়েছে, যা স্তন্যদানকারী মায়েদের বুকের দুধের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। এসব উপাদানকে দুধ বাড়াতে সহায়ক যৌগ বলা হয়।
মৌরি, মেথি, সজনে পাতা বা সজনে পাতার গুঁড়া এবং রসুন এ ধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে। তবে এসব খাবার খেলেই সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে—এমন নয়।
শুধু খাবার নয়, মায়ের যত্নও জরুরি
বুকের দুধ উৎপাদনের সঙ্গে মায়ের সামগ্রিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। তাই সন্তান জন্মের পর শুধু শিশুর খাবারের দিকে নজর না দিয়ে মায়ের নিজের খাবার, বিশ্রাম ও সুস্থতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো খাবারকে বুকের দুধ বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দুধ কম হচ্ছে বলে মনে হলে বা শিশুর পর্যাপ্ত দুধ না পাওয়ার আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক বা স্তন্যদান বিষয়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে মায়ের দুধ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টি ও সুস্থতা এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
