ঢাকা, বুধবার ১২, আগস্ট ২০২৬ ১৮:৩৭:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আয়ু বাড়ে বাসার খাবারে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৮ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাইরের খাবার এমনিতেই অস্বাস্থ্যকর। অনেকের ক্ষেত্রে বাইরের খাবার সহজপাচ্য হয়না বা সহজে হজম হয়না। অতিরিক্ত তেল, মসলা পরিপাকতন্ত্রে গোলমালের সৃষ্টি করে। এরফলে গ্যাস হয়, এ্যাসিডিটি বাড়ে, বুক জ্বালাপোড়ার অস্বস্তি হয় - অসুখ-অসুস্থতার ভোগান্তি বাড়ে।বাসায় রান্না করা খাবার স্বাভাবিকভাবেই নিশ্চিত ও নিরাপদ খাবার। কারণ বাসায় প্রিয়জনের রান্না করা খাবারের উপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস, রুচিশীলতা সর্বোপরি তৃপ্তির একটা ব্যাপার থাকে। যা খাবার গ্রহণে মানসিক প্রশান্তি দেয়- এরফলে শারিরীকভাবে আমরা সুফল পাই।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বিংহ্যামটন ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন খাদ্য ও খাদ্যতালিকার প্রভাবও হয় বিভিন্ন ধরনের। এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বয়সের ভিত্তিতেও বিভিন্ন খাদ্য ও খাদ্যতালিকার প্রভাবের ভিন্নতা দেখা যায়। 

বাসার খাবার খেলে মানুষ দীর্ঘজীবী হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডিক্যাল সেন্টার ও তাইওয়ানের ন্যাশনাল হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের জরিপ অনুযায়ী বলা হয়েছে, বাসায় রান্না করা খাবারে পুষ্টিমান বজায় থাকে অধিক পরিমাণে। 


তাইওয়ানের ৬৫ বছর বা ততোধিক বয়স্ক লোকদের রান্না-বান্নার অভ্যাস নিয়ে গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। ১০ বছর পর তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পরীক্ষা করেন গবেষকরা। এতে দেখা যায়, যেসব লোক বাসায় রান্না করা খাবার খেয়েছেন তারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। 

পাশাপাশি তাদের বেঁচে থাকার সংখ্যাটাও বেশি। জরিপে অংশ নেয়াদের ৪৭ শতাংশ গৃহে রান্না করা খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত বলে উলে­খ করা হয়। আর বাকি ৪৩ শতাংশ বাইরের খাবার খেয়ে থাকেন। 

গবেষণার ১০ বছর পর দেখা যায় যারা বাইরের খাবার খেতে অভ্যস্ত নন, তাদের বেশিরভাগই তুলনামূলক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। অন্যরা অনেকেই বেঁচে নেই। গবেষকদের নেতৃত্ব দেয়া মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক ওয়াল্কভিস্ট বলেন, রান্না একধরনের শিল্প। যারা নিজে রান্না করে খায় তাদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জ্ঞান থাকে। 


প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষ ছাড়া আর কেউ খাবার রান্না করে খায় না। এর কারণ কী? অন্যরা যদি কাঁচা মাছ-মাংস, ঘাস, লতা-পাতা খেয়ে পুষ্টি ও শক্তি জোগাতে পারে, মানুষ কেন রান্নার ঝামেলায় গেল? সাধারণভাবে বলা যায়, রান্না করা খাবারের অনেক গুণ। খাবারগুলো নরম হয়ে যায়, সহজে খাওয়া যায়, সহজপাচ্য, খাওয়ার সময় বাঁচে প্রভৃতি।

রান্না করা খাবার যেহেতু নরম, তাই দাঁতের ওপর চাপ কম পড়ে। এতে চোয়াল ও সেই সঙ্গে মুখের আকার ছোট ও সুন্দর হয়। মুখমণ্ডল ছোট হয়ে আসায় মাথার বাকি অংশে মস্তিষ্কের জন্য বেশি জায়গা পাওয়া যায়, যা মানুষের বুদ্ধির বিকাশ ঘটায় এবং মানুষ সত্যিকার অর্থে মানুষ হয়ে ওঠে। রান্না করা খাবার সেদিক থেকে মানুষকে সুবিধা দিয়েছে।