ঢাকা, রবিবার ০৬, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৪৫:৪৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

উত্তরাঞ্চলে আমন চাষে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন 

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৩ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে চলতি আমন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা আমন চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে মাঠে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাদা-জলে একাকার হয়ে বীজতলা থেকে ফসলের মাঠে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।


প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম মিলে উত্তরাঞ্চলে লেখা হচ্ছে, আমন চাষে সম্ভাবনার গল্প। আমন মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় চারা রোপণ নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয় কৃষকদের।
তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে স্বস্তিতে রয়েছেন উত্তরের কৃষকরা। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে সারিবদ্ধভাবে চলছে রোপণ।


কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি ভালো ফলন ও লাভবান হবেন কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রংপুরের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ধান।


ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগেুলোতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হবে।


দেখা যায়, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে ফসলের মাঠে কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ জমির আইল কোদাল দিয়ে ঠিক করছেন। কেউ আবার মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ করছেন। অনেক কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। একসাথে সারিবদ্ধ হয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন। আবার কেউ মাথায় গামছা বেঁধে চিরচেনারুপে জমিতে সার দিচ্ছেন। এভাবেই নানান কাজে কর্মব্যস্ততায় সরগরম বিস্তৃত ফসলের মাঠ। যে মাঠে কৃষকের ঘাম আর কাদা-জল একাকার হয়ে বীজতলা ভিজছে, সেই মাঠই ভরে উঠবে সোনালি ধানের শীষে। সেই সোনালি রং হয়ে উঠবে কৃষকের হাসি, স্বপ্ন ও সাফল্যের প্রতীক।


তিস্তা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে জানান, এবার তিনি ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন।


তিনি আরও জানান, হাড় ভাঙ্গা খাটুনি আর খরচাপাতি মিলিয়ে ধান চাষ করে তেমন একটা লাভ নেই। বরং লোকসানের হার বেশি। তারপরেও এ অঞ্চলে অন্য কোনো কাজ না থাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।


রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। এ মৌসুমে প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোনো অসুবিধা হয়নি। সেচ খরচও করতে হয়নি। ব্যয়ও আগের চেয়ে কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বেশ ভালো ফলন হবে।


মিঠাপুকুরের রানীপুকুর এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বোরো ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। এবার সেই আশায় ৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ শুরু করেছেন। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তার সব জমিতে ধানের চারা লাগানো শেষ হবে।


রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, উত্তরের কৃষকদের রোপা আমন ধান চাষে আগ্রহ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি ঠিকঠাক মতো রোপা আমন আবাদ শেষ হবে।


তিনি বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ হবে বলে আশা করছি। প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শসহ যেকোনো সেবায় কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছেন। সূত্র: বাসস