ঢাকা, বুধবার ০৪, নভেম্বর ২০২৬ ১৩:৩৩:৩০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে ক্ষমা চাইবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৪৩ এএম, ৪ নভেম্বর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সামাজিক জীবনে নানা কারণে ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা মানসিক অস্থিরতার কারণে কখনো কাছের মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। আবার অনেক সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিও রাখা সম্ভব হয় না। এসব ঘটনা থেকে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তবে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলে সেই দূরত্ব কমানো এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক ওয়েবসাইট হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমা চাওয়া মানে শুধু নিজের ভুল স্বীকার করা নয়, বরং সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মনস্তত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোনাল্ড সিগেলের মতে, কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে কে বেশি দায়ী, তা নিয়ে ভাবতে গিয়ে অনেকেই নিজের ভুল বা ভূমিকা বুঝতে পারেন না। অথচ সম্পর্কের বন্ধন পুনর্গঠনের জন্য নিজের অবস্থান বোঝার পাশাপাশি অপর ব্যক্তির কষ্ট ও অনুভূতিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কে ঠিক আর কে ভুল, সেই বিতর্কে না জড়িয়ে অপর পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের প্রয়াত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্ষমা বিষয়ে গবেষক ডা. অ্যারন লাজারে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন।

১. নিজের ভুলের দায় স্বীকার করা

ক্ষমা চাওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিজের ভুলের দায়িত্ব নেওয়া। নিজের আচরণে অন্য ব্যক্তি কষ্ট পেয়ে থাকলে তা স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে। অস্পষ্ট বক্তব্য কিংবা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ক্ষমা প্রার্থনার আন্তরিকতা নষ্ট করে। তাই কী ভুল করেছেন, তা বুঝতে পেরে সরাসরি স্বীকার করা জরুরি।

২. ভুলের কারণ ব্যাখ্যা করা, অজুহাত নয়

কোনো ভুলের পেছনে কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি থাকতে পারে। চাইলে এসব কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা যায়। তবে পরিস্থিতিকে নিজের খারাপ আচরণের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো যাবে না। বরং স্পষ্ট করতে হবে, পরিস্থিতি যেমনই হোক, অন্যের সঙ্গে এমন আচরণ করা ঠিক হয়নি।

৩. অনুশোচনা প্রকাশ করা

শুধু ভুল স্বীকার করলেই যথেষ্ট নয়, নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করতে হবে। অপর ব্যক্তি যে মানসিক কষ্ট পেয়েছেন, তা উপলব্ধি করে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে বোঝা যায়, ক্ষমা চাওয়াটি কেবল বিরোধ মেটানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিজের ভুল সম্পর্কে প্রকৃত উপলব্ধি থেকে এসেছে।

৪. ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া

ক্ষমা চাওয়ার পর নিজের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আচরণের কারণে কারও ক্ষতি হয়ে থাকলে তা যথাসম্ভব সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ভুল যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কথার পাশাপাশি আচরণে পরিবর্তন আনতে পারলেই ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

ক্ষমা চাওয়ার সময় যে কথাগুলো এড়িয়ে চলবেন

ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে শব্দ ও বাক্য নির্বাচনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, ‘আমার ব্যবহারের জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। অফিসে কাজের চাপ ছিল, কিন্তু সেই কারণে তোমার সঙ্গে এমন আচরণ করা আমার উচিত হয়নি’—এ ধরনের বক্তব্যে নিজের ভুলের দায় স্বীকারের পাশাপাশি পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করা হয়।

অন্যদিকে, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে’ কিংবা ‘তুমি যদি এতটা সংবেদনশীল না হতে’—এ ধরনের মন্তব্য এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব কথায় নিজের ভুলের দায় স্বীকারের পরিবর্তে অপর ব্যক্তির অনুভূতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এতে সম্পর্কের দূরত্ব কমার বদলে আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনার মূল ভিত্তি হলো নিজের ভুলের দায়িত্ব নেওয়া, অপর ব্যক্তির অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো এবং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। অহংকার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রবণতা বাদ দিয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে পারলে সম্পর্কের হারানো আস্থা ও পারস্পরিক সম্মান ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হতে পারে।