ঢাকা, শনিবার ১৯, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০১:১৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ফিজিতে প্রতি ৫০ জন গর্ভবতী নারীর একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত গ্রিন কার্ড পেতে নতুন নিয়ম জানালো ট্রাম্প প্রশাসন দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ল প্রথমবার জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়াল সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প সুনামগঞ্জে বাবার হাতে বিষপানে ৩ শিশুর প্রাণহানী পাবনায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রধান অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর

চড়ুই আমাদের ঘরের পাখি, আঙ্গিনার বন্ধু

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:০৮ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

ছাদের কার্নিশে বসে একটি পুরুষ চড়ুই।

ছাদের কার্নিশে বসে একটি পুরুষ চড়ুই।

সকালের নরম রোদ। জানালার পাশে বসে এক কাপ চা হাতে নিলে হঠাৎ কানে আসে পরিচিত কিচিরমিচির শব্দ। বারান্দার রেলিংয়ে বসে আছে দু-তিনটি ছোট্ট পাখি। কখনো মাটিতে নেমে ঠোঁট দিয়ে খাবার কুড়াচ্ছে, আবার কখনো ডানা ঝাপটে উড়ে যাচ্ছে পাশের গাছের ডালে। এই ছোট্ট পাখিটির নাম চড়ুই। আমাদের ঘরবাড়ি, উঠান, দোকানপাট, স্কুলের আশপাশ—সব জায়গারই যেন পরিচিত বাসিন্দা সে।

চড়ুই আকারে ছোট। সাধারণত এর দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার। পুরুষ ও স্ত্রী চড়ুইয়ের রঙে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। পুরুষ চড়ুইয়ের মাথার ওপর ধূসর রং, গলা ও বুকের কাছে কালচে দাগ এবং পিঠে বাদামি-কালচে ছোপ থাকে। স্ত্রী চড়ুইয়ের রং তুলনামূলকভাবে ফিকে বাদামি ও ধূসর। ছোট্ট গোল মাথা, শক্ত ছোট ঠোঁট, ছোট ডানা আর লম্বাটে লেজ—সব মিলিয়ে চড়ুই দেখতে বেশ ছটফটে।

চড়ুই মানুষের বসতির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে। বাড়ির কার্নিশ, ছাদের ফাঁক, দেয়ালের ছোট গর্ত, টিনের চালের নিচ কিংবা জানালার ওপরের নিরাপদ জায়গায় তারা বাসা বানায়। শুকনো ঘাস, খড়, পালক, সুতা, কাগজের টুকরা—যা সহজে পাওয়া যায়, তা দিয়েই তৈরি করে বাসা। কখনো পুরোনো কোনো বাসা মেরামত করেও সেখানে থাকতে দেখা যায় তাদের।

চড়ুইয়ের প্রধান খাবার শস্য ও বিভিন্ন ধরনের বীজ। ধান, গম, চালসহ নানা ধরনের শস্যের দানা তারা খায়। পাশাপাশি ছোট পোকামাকড়ও তাদের খাবারের তালিকায় থাকে। বিশেষ করে ছানাদের বেড়ে ওঠার সময় মা-বাবা চড়ুই পোকামাকড় ধরে এনে খাওয়ায়। এ কারণে প্রকৃতিতে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও চড়ুইয়ের ভূমিকা রয়েছে।

চড়ুই সাধারণত দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। একা থাকার চেয়ে কয়েকটি চড়ুইকে একসঙ্গে খাবার খুঁজতে কিংবা গাছের ডালে বসে ডাকাডাকি করতে বেশি দেখা যায়। তাদের পরিচিত ‘চিঁ চিঁ’ ডাক শহরের মানুষের কাছেও খুব চেনা। ভোরের নীরবতা ভেঙে কিংবা বিকেলের শেষ আলোয় চড়ুইয়ের ডাক প্রকৃতিতে এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে।

চড়ুই সাধারণত একবারে কয়েকটি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে ছানা বের হওয়ার পর মা-বাবা দুজনেই তাদের খাবার জোগাড় করে। ছোট ছানারা প্রথমদিকে উড়তে পারে না। ধীরে ধীরে ডানা শক্ত হলে তারা বাসার বাইরে আসতে শেখে। একসময় মা-বাবার সঙ্গে খাবার খুঁজতে বের হয়।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চড়ুই মানুষের বসতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। আমাদের গ্রামবাংলার বাড়িঘর থেকে শুরু করে শহরের পুরোনো ভবন—সব জায়গাতেই একসময় চড়ুইয়ের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু নগরায়ণ, পুরোনো বাড়িঘর ভেঙে নতুন ভবন তৈরি, গাছপালা কমে যাওয়া, নিরাপদ বাসা বানানোর জায়গার সংকট এবং খাদ্যের অভাবসহ নানা কারণে অনেক এলাকায় চড়ুইয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা বলা হয়।

চড়ুইয়ের জন্য আমাদের সামান্য কিছু উদ্যোগও কাজে আসতে পারে। বাড়ির বারান্দা বা ছাদে নিরাপদ স্থানে ছোট পাখির বাসা রাখার ব্যবস্থা করা যায়। একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি রাখা যায়। পাশাপাশি কিছু শস্যদানা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে খাবার বা পানি রাখার জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।

চড়ুই শুধু একটি ছোট পাখি নয়; আমাদের শৈশব, উঠান, জানালা আর ঘরের সঙ্গে মিশে থাকা এক পরিচিত সঙ্গী। সকালে তার ডাক শুনে কত প্রজন্মের ঘুম ভেঙেছে, তার হিসাব নেই। শহরের কংক্রিটের ভিড়ে যখন পাখির ডাক কমে আসে, তখন চড়ুইয়ের কিচিরমিচির যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই পৃথিবী শুধু মানুষের নয়, ছোট্ট পাখিদেরও।

তাই চড়ুইকে ভালোবাসা মানে শুধু একটি পাখিকে ভালোবাসা নয়; বরং আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে ভালোবাসা। আমাদের ঘরের এই ছোট্ট অতিথির জন্য একটু জায়গা, একটু পানি আর একটু খাবারের ব্যবস্থা করলেই হয়তো আবারও সকালবেলা জানালার পাশে শোনা যাবে সেই চেনা ডাক—‘চিঁ চিঁ, চিঁ চিঁ’।