ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ১২:০৭:৩৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

আজ জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৩০ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। বাংলাদেশে এ বছর দিবসটি দ্বিতীয়বারের মতো পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘গ্রন্থাগারে বই পড়ি, আলোকিত মানুষ গড়ি’।  

২০১৮ সালে ‘বই পড়ি, স্বদেশ গড়ি’ এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয় দেশে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রতি বছর ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। 

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, সভ্য সমাজ বিনির্মাণে বইয়ের রয়েছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দেশ ও জাতির শিক্ষা, রুচিবোধ ও সংস্কৃতির কালানুক্রমিক পরিবর্তনকে গ্রন্থাগার বই কিংবা অন্য কোন প্রামাণ্য আকারে ধারণ করে। তাই গ্রন্থাগারকে অতীত ও বর্তমান শিক্ষা-সংস্কৃতির সেতুবন্ধ বলা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, গণগ্রন্থাগারে সকলের জন্য পাঠসেবা, তথ্যসেবা, গবেষণা কার্যক্রমসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য সেবাপ্রাপ্তির বাধাহীন সুযোগ থাকে। সে কারণে গণগ্রন্থাগারকে জনমানুষের বিশ্ববিদ্যালয়রূপেও অভিহিত করা হয়।
 
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা, ব্যবহার এবং উপকারিতা বিষয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক সচেতনতার সৃষ্টি করবে।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাহিত্য-সংস্কৃতির মূল্যবান উপাদানের যথাযথ সংরক্ষণে জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর অব্যাহতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহে বিনামূল্যে বই সরবরাহ এবং আর্থিক অনুদান করাসহ ব্যাপক কর্মকান্ডের অব্যাহত বাস্তবায়ন সাফল্যজনকভাবে এগিয়ে চলেছে।

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষ্যে এ বছরও শাহবাগ গণগ্রন্থাগার চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। আজ সকাল ৯টায় এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের শওকত ওসমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

জাতীয় গ্রন্থাগার হলো একটি দেশের সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিশেষ এক ধরণের গ্রন্থাগার। যে গ্রন্থাগার দেশ ও দেশের বাইরের মূল্যবান সাহিত্য কর্মগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়। জাতীয় গ্রন্থাগার একই দেশে অবস্থিত অন্যান্য গ্রন্থাগারের তুলনায় আকারেও বড় হয়ে থাকে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রন্থাগার একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও ধারক।

ঢাকায় পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের একটি শাখা চালু হয় ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বরে। এটি ছিলো জাতীয় গ্রন্থাগার নির্মাণের প্রথম ধাপ। তবে কার্যত বাংলাদেশে জাতীয় গ্রন্থাগার চালু হয় ১৯৭৩ সালে। বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারকে বাংলাদেশ জাতীয় মহাফেজখানা ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অধীনে আনা হয় ১৯৭৩ সালে।  বর্তমানে এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনের একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগারের কার্যক্রম শুরু হয় ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের ভাড়া বাসায়। পরবর্তীতে জাতীয় গ্রন্থাগার ঢাকার শেরে বাংলা নগরের আগারগাঁও-এ নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয় ১৯৮৫ সালে। একুশের বইমেলা এবং ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দিবস পালনের জন্যই ৫ ফেব্রুয়ারিকে বেছে নেওয়া হয়েছে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে।

জাতীয় গ্রন্থাগার দেশের অন্যান্য গ্রন্থাগারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে অত্যন্ত সাধারণভাবে জাতীয় গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই গ্রন্থাগারে প্রায় চার লাখ বই সংগৃহীত আছে। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ দুর্লভ পুস্তক, পত্রিকা ও পান্ডুলিপিসহ রাখা আছে। সংগ্রহে আছে বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপ মহাদেশের বিপুল সংখ্যক পুরনো মানচিত্র। মূলত জাতীয় গ্রন্থাগার একটি জাতির ইতিহাস ,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন করে, যা ঐ দেশ এবং জাতিকে বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।