ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ১৩:২১:২১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার পানি নামার ৪১ স্লুইসগেটের ২২টিই অচল ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি, ভাষার মাস শুরু

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৫ এএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি, ভাষার মাস শুরু। বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে এই মাসের তাৎপর্য অপরিসীম। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য শহীদ হয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেক তরুণ। আমরা তাঁদের জীবনের বিনিময়ে পেয়েছি আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। পেয়েছি মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। বিশ্বে আর কোন জাতি খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা মায়ের মুখের ভাষা রক্ষায় প্রাণ দিয়েছে, লড়াই করেছে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ ছিলো বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় অভিশাপ। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের ছিলো দুইটি অংশ, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে কোনো মিল না থাকলেও তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশকে রাখা হয়েছিলো পাকিস্তানের সাথে। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলো পশ্চিম পাকিস্তান। আর এ কারণে শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তান ছিলো সবদিক থেকে বৈষম্যের শিকার। বাঙালি জাতি সবথেকে বেশি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে তখন, যখন এই জাতি তার কথা বলার অধিকার হারাতে বসে।  

মূলত ১৯৪৮ সাল থেকেই শুরু হয় বাঙালির ভাষা রক্ষার লড়াই। তদানিন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার  ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে তখন থেকেই ফুঁসে ওঠে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালী জাতি।

পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আবারও একই ঘোষণা আসলে বাঙালি জাতিকে আর দমিয়ে রাখা যায়নি। তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে তারা। উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে শুরু করে আন্দোলন। এই আন্দোলনকে দমাতে তদানিন্তন পাকিস্তান সরকার ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে মিছিল বের করলে তৎকালীন পাকিস্তান পুলিশ তাঁদের উপর গুলি বর্ষণ করে। গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো অনেকে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তদানিন্তন পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান করতে বাধ্য হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। যা প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। 

বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিলো এই ভাষা আন্দোলন। কারণ ভাষা আন্দোলনেই বাঙালি প্রথম সফলতা অর্জন করে। 

বাঙালি পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। এই ফেব্রুয়ারি মাসেই বাঙালি প্রাণ দেয় মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে। আর তাই ফেব্রুয়ারি মাস বাঙালি জাতির জন্য গভীর তাৎপর্য বহনকারী একটি মাস। এই মাসের গুরুত্বকে তুলে ধরতেই প্রতি বছর আয়োজন করা হয় একুশের বইমেলার। প্রতি বছরই পহেলা ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলে পুরো মাসব্যাপী।