ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ১৭:০৫:২৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শেখ হাসিনা ও ১০ শিল্প গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী উইডিকম্বকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে:পুলিশ শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক ফের বাড়ছে তিস্তা-দুধকুমার নদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৫:১২ পিএম, ৩১ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার

আজ বৃহস্পতিবার (৩১ মে), বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য-তামাক করে হৃদপিন্ড ক্ষয়/স্বাস্থ্যকে ভালোবাসি, তামাককে নয়। তামাকজনিত মৃত্যুর ৮০ ভাগই হয় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপান। হৃদরোগের কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপের পরই তামাক ব্যবহারের স্থান।

 

২০০৯ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ তামাক সেবন করে। ৪৫ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক অধূমপায়ী মানুষ জনসমাগমস্থলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। হ্যাংরি ফর টোব্যাকো শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক সেবনকারীরা যদি তাদের তামাকের ব্যয়ের ৬৯ শতাংশ অর্থ দিয়ে খাদ্য কেনে তবে অপুষ্টিজনিত মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।

 


এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবস পালনে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

 


বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক খরচের পাঁচ শতাংশ তামাক ব্যবহারে এবং ১০ শতাংশ তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়। তামাকজনিত কারণে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব ছাড়াও আরও ৬৫২ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। কাজেই তামাক ব্যবহারে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয়। তবুও তামাকের উৎপাদন কমেনি।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান তামাক চাষের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। এছাড়া তামাক ব্যবহারের কারণে কর্মক্ষম মানুষের বিরাট অংশ অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের শিকার হন, যা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্থ করে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বৈষম্য কমানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যুর পরিমাণ বছরে ৮০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এই মৃত্যুর মিছিল শতকরা ৮০ ভাগই হবে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তাছাড়া বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা শহরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি হলেও পাবলিক প্লেসে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার চিত্র ঠিক উল্টো। শহরের আবদ্ধ স্থানে বায়ু দুষণের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান, যা অধিবাসীদের নিরাপদ রাখার বড় অন্তরায়।


বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি সংশোধন করে। এরপর ২০১৫ সালে প্রকাশ করে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা। আইন ও বিধি বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি, তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ নীতি, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি ইত্যাদি প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব নীতি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার। তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর ও দফতরের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করছে।