ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৫:৪৪:৪২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

আমার গল্পে নারীরা হার মানে না, লড়াই করে: সোমা দেব

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৩৭ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার

লেখক সোমা দেব। ছবি: উইমেননিউজ২৪.কম।

লেখক সোমা দেব। ছবি: উইমেননিউজ২৪.কম।

সোমা দেব—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। একাধারে তিনি শিক্ষক, গবেষক, প্রবন্ধকার এবং গল্পকার। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের জন্যও গল্প লেখেন। তার গল্পে উঠে আসে সমাজের নানা বাস্তবতা, বিশেষ করে সংগ্রামী নারীর জীবন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উইমেননিউজ২৪.কম-এর বিশেষ প্রতিনিধি রাতুল মাঝি।

প্রশ্ন: আপনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক। এই শিক্ষকতা এবং গবেষণার মধ্য দিয়ে কী ভাবনা বা লক্ষ্য সামনে রাখেন?

সোমা দেব: শিক্ষক হিসেবে আমি চাই ছাত্রছাত্রীরা শুধু তথ্য সংগ্রহ ও রিপোর্টিং শিখুক না, তারা ভাবুক। সাংবাদিকতার কাজ কেবল খবর দেওয়া নয়, সমাজকে প্রশ্ন করা, সচেতনতা সৃষ্টি করা। গবেষণা আমার জন্য শিক্ষার সম্পূরক—এতে নতুন বিষয় জানতে পারি, সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো গভীরভাবে দেখতে পারি। বিশেষ করে নারী, শিশু ও শিক্ষাবিষয়ক গবেষণায় আমার আগ্রহ বেশি। কারণ এই বিষয়গুলো সমাজের নড়বড়ে কাঠামোকে সামনে এনে দেয় এবং পরিবর্তনের সুযোগ দেখায়।

প্রশ্ন: শিক্ষকতার পাশাপাশি আপনি শিশুসাহিত্য করেন। এছাড়াও মূলত আপনি বড়দের জন্য গল্প লিখছেন। গল্পকার হিসেবে আপনার মূল চিন্তার জায়গাটি কী?

সোমা দেব: আমার কাছে লেখালেখি মূলত পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু হয়। শিশুসাহিত্যে আমি শিশুদের কল্পনা, আনন্দ আর শেখার জায়গাটাকে গুরুত্ব দিই। আর প্রাপ্তবয়স্কদের গল্পে আমি সমাজের বাস্তবতা, সম্পর্কের জটিলতা এবং বিশেষ করে নারীর জীবনের নানা সংগ্রাম তুলে ধরতে চাই। দুই ক্ষেত্রেই চেষ্টা করি ভাষাকে সহজ কিন্তু প্রভাবশালী রাখতে, যাতে পাঠক সহজেই সংযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন: আপনার গল্পগুলোতে লড়াকু নারী চরিত্র বারবার উঠে আসে। এই বিষয়টির প্রতি আপনার বিশেষ আগ্রহ কেন?

সোমা দেব: আমাদের সমাজে নারীরা প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন—কখনো পরিবারে, কখনো কর্মক্ষেত্রে, কখনো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। আমি চাই এই সংগ্রামগুলো দৃশ্যমান হোক। আমার গল্পের নারী চরিত্ররা দুর্বল নয়, তারা লড়াই করে, দাঁড়িয়ে থাকে। এই শক্তিটা দেখানো জরুরি বলে মনে করি।

প্রশ্ন: নারী বিষয়ক গবেষণায় আপনার যে অভিজ্ঞতা, তা আপনার গল্প ও পেশায় কীভাবে প্রভাব ফেলে?

সোমা দেব: গবেষণা আমাকে বাস্তবতা ও তথ্য দেয়, আর গল্প আমাকে সেই বাস্তবতাকে অনুভবযোগ্য করে তোলে। যখন আমি কোনো নারীর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখি, তখন গবেষণার তথ্য বিষয়টিকে শক্ত ভিত্তি দেয়, আর গল্প সেই অভিজ্ঞতাকে জীবন্ত করে তোলে। ফলে পাঠক শুধু জানে না, অনুভবও করে।

প্রশ্ন: আপনার গল্পের চরিত্রগুলো কি বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া?

সোমা দেব: অনেকাংশেই হ্যাঁ। আমি আশপাশের মানুষ, তাদের জীবন, সংগ্রাম—এসব থেকেই অনুপ্রেরণা নিই। গল্পে কিছু কল্পনা যোগ হয়, কিন্তু মূল ভিত্তি থাকে বাস্তব। আমি চাই পাঠক যেন চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজের বা পরিচিত কারও ছায়া দেখতে পান।

প্রশ্ন: বর্তমানে নারী ও সাহিত্য নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

সোমা দেব: সমাজ অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু চ্যালেঞ্জ এখনও আছে। শিশুসাহিত্য শিশুদের কল্পনা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে। আর নারীবিষয়ক সাহিত্য সমাজকে প্রশ্ন করে, সচেতনতা তৈরি করে। এই দুই ক্ষেত্রেই আরও দায়িত্বশীল ও গভীর কাজ প্রয়োজন।

প্রশ্ন: শিক্ষাজীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী মনে হয়?

সোমা দেব: ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তা তৈরি করা। অনেক সময় তারা তথ্য নেয়, কিন্তু প্রশ্ন করতে শেখে না। আমি চাই তারা বিশ্লেষণ করুক, নিজের মত গড়ে তুলুক। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: গবেষণা ও সৃজনশীল লেখালেখি—এই দুইয়ের মধ্যে আপনি কীভাবে ভারসাম্য রাখেন?

সোমা দেব: আমি এটাকে আলাদা করি না। গবেষণা আমাকে গভীরতা দেয়, আর লেখালেখি আমাকে সেই গভীরতাকে প্রকাশ করার সুযোগ দেয়। একে অন্যকে সমৃদ্ধ করে।

প্রশ্ন: শিক্ষকতা ও গল্প লেখা—কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?

সোমা দেব: দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভিন্নভাবে। শিক্ষকতা সামাজিকভাবে মানুষ ও সমাজে প্রভার ফেলে। আর গল্প দীর্ঘমেয়াদে মানুষের চিন্তা ও মূল্যবোধে প্রভাব ফেলে। একটি তথ্য দেয়, অন্যটি অনুভূতি তৈরি করে।

প্রশ্ন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সোমা দেব: আমার নিজের পেশার পাশাপাশি নারী ও শিশু বিষয়ক গবেষণা আরও এগিয়ে নিতে চাই। নিয়মিত নতুন গল্প লিখতে চাই—যেখানে সমাজের বাস্তবতা, মানুষের লড়াই ও আশার কথা থাকবে।

প্রশ্ন: একজন শিক্ষক, গবেষক ও গল্পকার হিসেবে আপনার ছাত্র ও পাঠকদের জন্য বার্তা কী?

সোমা দেব: সবসময় প্রশ্ন করুন, শিখতে থাকুন। পড়াশোনা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করার জন্য। আর সাহিত্য পড়ুন—কারণ এটি মানুষকে গভীরভাবে ভাবতে শেখায়।